নিরপেক্ষতার বল সরকারের কোর্টে

0
43
Print Friendly, PDF & Email

জানে বেঁচে থাকা না ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা বড় কথা? এই প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের মতো আরো ৭৩ উপজেলার ভোটারা। বিশেষ করে সরকার বিরোধী মতাবলম্বীরা। রাত পোহালেই জানবাজি রেখে এসব উপজেলার ভোটাররা যাবেন ভোট কেন্দ্রে। কিন্তু চতুর্থ উপজেলার মত এবারও যদি ভোট কেন্দ্রে দখল উৎসব চলে তাহলে ভোটাররা পারবে তো ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে? এই প্রশ্নের উত্তর নেই। ফলে পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র তো দূরের কথা নির্বাচনী এলাকায় থাকাও নিরাপদ মনে করছেন না সরকার বিরোধীরা। তার উদাহরণ বিএনপি অধুষ্যিত লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুর উপজেলায় সরকারি দল-সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে আর কোনো প্রার্থীর পক্ষে কোথাও কোনো প্রচার বা পোস্টার নেই। বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক, কে কখন সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার বা গ্রেফতার হন। জীবন বাঁচাতে বা গ্রেফতার এড়াতে সেখানের অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এখন এলাকা ছাড়া। সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকদের বাইরে আর যারা এলাকায় আছেন, তারাও অনেকটা বোবা। নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। অন্যদিকে শুধু সাধারণ ভোটারই নয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও অনিরাপদ। কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সীল মেরেও যেখানে সরকার দলীয়দের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না সেখানকার নির্বাচিতদের বিরুদ্ধে নেমে আসছে নতুন-পুরনো মামলা। কেউ খালে-বিলে পাওয়া লাশ, কেউ গুম হচ্ছেন, কাউকে জেলেও যেতে হচ্ছে। আলাপকালে এমনতর করেছেন ১৯ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। তারা বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপেও নিরপেক্ষতার বল সরকারের কোর্টে দিবে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া উপজেলা নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতাসীনদের বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার নানা ঘটনা তুলে ধরে বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারি ও চলমান উপজেলা নির্বাচনই প্রমাণ করে দিয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এটা এখন কেবল গোটা বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিদেশীরাও মনে করে।
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে যখন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হতে শুরু করলো পরেরবার থেকেই আওয়ামী লীগ শয়তানি শুরু করলো। এবারো ফলাফল ঠিকঠাক করাই আছে নির্বাচনের দিন শুধু ঘোষণা দিবে। আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সীল বাক্সে ভরে রাখে। তাই সকাল ৮টা থেকে শুরু হলেও ৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়।
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু ইনকিলাবকে বলেন, বিগত ধাপের সহিংসতা ও ভোট ডাকাতির ইস্যুতে আমরা নির্বাচন বর্জন করতে পারতাম কিন্তু তা করবো না। কারণ সরকার তথা আওয়ামী লীগ কি জিনিষ তার স্বরূপ উন্মোচনের জন্যই নির্বাচনের মাঠে রয়েছি। চারধাপের জনগণ তাদের দেখেছে। আগামীকাল পঞ্চমবারের মতো দেখবে। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সন্ত্রাস, ভোটডাকাতির বিরুদ্ধে যথাসাধ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলতে। তবে জান দিয়ে নয়। তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরের মতো সারা দেশেই তা-ব চলছে। আমাদের জীবন-মরণ প্রশ্ন। তাই নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা হলো- মরতে হলে একা নয়।
সংবাদ সম্মেলন : গতকাল সন্ধ্যায় শ্যামলীতে তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রিজভী আহম্মেদ বলেন, জনগণ নূন্যতম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেলে অধিকাংশ স্থানেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার সমর্থকরা এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ ছিনিয়ে নিতে তারা মরিয়া। নির্বাচন কমিশন তাদের সিলমোহরের দায়িত্ব পালন করছে। তাই তারা কোনো অভিযোগই আমলে নিচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার সমর্থকদের সহিংসতা নিয়ে শুধু যে বিএনপিই অভিযোগ করছে তা নয়, গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নির্ভিকার। সংবাদ সম্মেলনে দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বহিষ্কার ও সমর্থন : শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকার দায়ে বরগুনার বামনা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনজুরুল রব মর্তুজা হাসান মামুন এবং ময়মনসিংহ (উত্তর) জেলার নান্দাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল খায়ের বাবুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাহজাহান আলীকে, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। –

শেয়ার করুন