উৎসবের ভোট আতঙ্কে পরিণত

0
126
Print Friendly, PDF & Email

: আগামীকাল সকালেই শুরু হবে পঞ্চম দফায় ৩৬ জেলার ৭৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় সরগরম ছিল নির্বাচনী এলাকাগুলো। প্রতিটি এলাকাতেই বিরাজ করছিলো উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলসহ অধিকাংশ দল বর্জন করায় এবং উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ছিলো বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পর এই উৎসবের ভোট এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে শঙ্কা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মারমুখী ভূমিকা, কেন্দ্র দখল, বোমা হামলা, জাল ভোট, কারচুপি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ব্যাপক সহিংসতার কারণে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আর এসব অনিয়ম ও সহিংসতায় জ্বালানী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নীরবতা কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম চার ধাপের নির্বাচনে এ পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের মারধর ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মুখে টিকতে না পেরে প্রথম চার ধাপে ৩৩ টি উপজেলায় ভোট বর্জন করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে ৯৯ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ফলে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি যে উৎসাহ, উদ্দীপনা, আমেজ ও উৎসবের প্রত্যাশায় ভোটগ্রহণে অংশ নিয়েছিলেন প্রার্থী ও ভোটাররা। চার ধাপ পরে পঞ্চম ধাপে এসে সেই উৎসব পরিণত হয়েছে আতঙ্ক ও শঙ্কায়।
নির্বাচনে ধাপে ধাপে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ও জালিয়াতির ঘটনা বাড়ায় পঞ্চম দফার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রার্থী ও ভোটারা। এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্র দখল ও সহিংসতার আশঙ্কা করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন অনেক প্রার্থী। এ ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এক সংবাদ সম্মেলনে এ নাগরিক সংগঠনটি জানিয়েছে, এভাবে দখল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিগত চার ধাপের নির্বাচন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব নির্বাচনের প্রতিটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সর্বশেষ ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপে ৯১টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপে কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে ২০ উপজেলার ৯৫টি কেন্দ্রে। এর বাইরে আরও ২৩৮টি কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রিজাইডিং ও পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে ২২০টি কেন্দ্রে। এদিন সহিংসতায় নিহত হন চারজন। এর মধ্যে একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। এ ধাপের নির্বাচনে সহিংসতায় আহত আরও দু’জনের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। স্থগিত করা হয় ৩২ টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ, অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে পুনরায় নিতে হয় ভোট। ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়া ও ব্যালট ছিনতাইয়ের মুখে টিকতে না পেরে অন্তত ১০টি উপজেলায় বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। এ ধাপের নির্বাচনে যেসব এলাকায় দখল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ব্যাপক সহিংসতার এ ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বেশি বিজয়ী হওয়ায় বিজয়ী প্রার্থীদের সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে যায় ক্ষমতাসীন দল।
তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৮১ উপজেলার ভোটগ্রহণের সময় সহিংসতায় মারা যান ৩ জন। আট উপজেলায় নির্বাচন বর্জন, ২৬ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার ঘটনা ঘটে। এই নির্বাচনে প্রাণহানি, অসংখ্য আহত, ভোটগ্রহণ স্থগিত ও বর্জনের ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) রুটিন দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেছিলেন, মানুষ মারা যেতেই পারে তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। অনেকগুলো কেন্দ্রের মধ্যে সহিংসতা হয়েছে সামান্য কয়েকটা জায়গায়। এ জন্য আমরা আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। দ্বিতীয় ধাপের সহিংসতায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার নান্দিয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত হন সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবক। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও বাগেরহাটের ফকিরহাটে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ভোটাররা। সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নোয়াখালী সদর উপজেলার সবকেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে ইসি। এছাড়া ৩৪টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। ৬ টি উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট চলাকালেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে উৎসবের প্রত্যাশায় প্রথম ধাপের যে ভোট অনুষ্ঠিত হয় সেখানেও অভিযোগ ও অনিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে ৯ উপজেলা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করে। কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার কারণে ৩ জেলার ৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
পঞ্চম ধাপের নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক: নির্বাচনে ধাপে ধাপে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ও জালিয়াতির ঘটনা বাড়ায় পঞ্চম দফার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। আগামীকাল ৩১ মার্চ এ ধাপে ৭৪টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনে হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা করে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন অনেক প্রার্থী। এ ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। পঞ্চম ধাপের  নির্বাচনের দু’দিন আগেও বেশ কয়েকটি উপজেলায় হামলা, সংঘর্ষ ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অহরহ আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। বিএনপির একক প্রার্থী ভিপি আবদুর রহিমের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে সরকারদলীয় সমর্থিতরা। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি আবদুর রহিমের পৌর সোনাপুরস্থ ভাড়া বাড়িতে বৃস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলিবর্ষণ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ ক ম রুহুল আমিনের সমর্থকরা। এর আগে বুধবার রাতে ওই বাড়িতে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের সর্মকরা। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা মাহমুদুল করিম দিপু সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে হুমকি দিয়ে লক্ষ্মীপুরকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম সালাউদ্দিন টিপুর সমর্থকরা ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদুল করিম দিপুর সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে বাধা হয়েছে। পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন শুক্রবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে দুটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মীদের মারধর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, মাইকিংয়ে বাধা, মাইক ভাঙচুর ও মাইকম্যানকে মেরে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
নোয়াখালীর সূবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাস, তা-ব ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. শাহজাহান অভিযোগ করেন, সূবর্ণচর উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান ও জামায়াত সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর গত দু’দিনে ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অপর নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছাড়া। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতিয়া এলাকার ভোটাররা সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের ভয়ে তটস্থ। প্রাণের ভয়ে বয়ারচর, নলেরচরসহ প্রায় সব এলাকার ভোটাররা ১৯ দলীয় প্রার্থীর এজেন্ট হতে সাহস পাচ্ছেন না। সূবর্ণচর নিম্ন এলাকার ভোটারদের ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য বনদস্যু, জলদস্যু ও স্থানীয় ডাকাত বাহিনীকে ক্ষমতাসীনরা ব্যবহার করছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব, ষড়যন্ত্র ও কারচুপির মাধ্যমে প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ক্ষমতাসীন দলের যোগসাজশে প্রশাসন পছন্দমতো ৯০ জন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ২৮টি কেন্দ্র পরিবর্তন ও নতুন কেন্দ্র সংযোজন করেছে। এটি নির্বাচনে কারচুপির একটি ষড়যন্ত্র, যা ১৯ দলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করলে তা স্থগিত করে সংসদ নির্বাচনের ১৬২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের ওপর মারধরের পর এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে বিএনপি। পুলিশ বিএনপি নেতা কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অভিযানের নামে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। বিগত ১৫ দিন ধরে কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, মহিলা কর্মীদের লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে স্থানীয় এমপির আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কারণে নির্বাচন বর্জন ছাড়া কোন পথ থাকবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপি।
প্রচার-প্রচারণা শেষ: নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসারে গত মধ্যরাত (১২টার পর) থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। নির্বাচনের ৬৪ ঘন্টা পর্যন্ত থাকবে প্রচারণার উপর এই নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে কোন ব্যক্তি কোন ধরনের সভা-সমাবেশ-মিছিল বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোন প্রচারণা বা অনুষ্ঠান করতে পারবেন না। ২৯ মার্চ দিবাগত মধ্য রাত থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোন ধরনের সভা-সমাবেশ-মিছিল বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ৬ মাসের দ- বা সর্বোচ্চ ৫ বছরের দ- অথবা পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- প্রদান করা হবে। ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান এ তথ্য জানান।
মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী: উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৭৩ উপজেলায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনের আগে দু’দিন ও পরে দু’দিনসহ মোট পাঁচ দিন তারা মাঠে থাকবেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের আগের দু\দিন, পরের দু\দিন এবং নির্বাচনের দিন মোট পাঁচদিন সেনা সদস্যরা মাঠে থাকবেন। প্রতি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ৩৪ সদস্যের এক প্লাটুন সেনা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও যেকোনো নাশকতা মোকাবিলায় নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি একজন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা সদস্যরা কাজ করবেন। এসব উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পঞ্চম দফায় ঘোষিত তফসিলের ৭৪টি উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল-৮ আসনে উপ-নির্বাচনের কারণে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করে। এ ছাড়া তৃতীয় দফায় স্থগিত গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এই দফার সাথে হওয়ার কারণে ৭৪টি উপজেলাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ১ হাজার ৬৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন ৩৬৪ জন, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪২০ জন ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী ২৭৯ জন। দেশের ৪৮৭টি উপজেলার মধ্যে এর আগে গত প্রথম দফায় ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭ উপজেলা, ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ১১৫ উপজেলা, ১৫ মার্চ তৃতীয় দফায় ৮১ উপজেলা এবং ২৩ মার্চ ৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোর নির্বাচনের তফসিলও শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।

শেয়ার করুন