সোনালী ব্যাংকের লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে গতি নেই

0
69
Print Friendly, PDF & Email

২০ দিন কেটে যাওয়ার পরও সোনালী ব্যাংকের বগুড়া আদমদীঘি শাখা থেকে লুট হওয়া ৩২ লাখ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট শাখা এবং অঞ্চলের পাঁচজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে মাত্র। আর গ্রেফতার করা হয়েছে দু’জন নিরাপত্তারক্ষীকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও প্রদীপ কুমার দত্তকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের জবাবও তিনি দিয়েছেন। ঘটনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের দোষারোপ করেছেন। বলেছেন, শাখার নিরাপত্তার জন্য তার নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করা হয়নি।
অন্য দিকে তার বিরুদ্ধে যেন কোনোরূপ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয় সে জন্য প্রদীপ কুমার দত্ত জোর লবিং করে চলেছেন। এই লবিংয়ের জোরে সোনালী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে শুধু ‘মৌখিক সতর্কতা’ ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা না-ও নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ৮ মার্চ সোনালী ব্যাংকের বগুড়া আদমদীঘি শাখা থেকে সুড়ঙ্গ কেটে ৩২ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে একই উপায়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকা লুট করা হয়। এই ঘটনাগুলোর সব ঘটেছে বর্তমান এমডির সময়কালে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনালী ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান এমডি প্রদীপ কুমার দত্তকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয় ২০১২ সালের ১৭ জুলাই। দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া চুক্তির মেয়াদ আগামী ১৬ জুন শেষ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যাতে না নেয়া হয় তার জন্য জোর লবিং চালানো হচ্ছে। এ জন্য তিনি বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণাও দিচ্ছেন। ব্যাংকের আগের এমডি হুমায়ুন কবীরের সময় সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ঘটে। সে সময় ব্যাংকটির রূপসী বাংলা শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে লোপাট করে নেয়া হয় আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর বর্তমান এমডির সময় একের পর এক সুড়ঙ্গ কেটে টাকা লুটের ঘটনা ঘটে চলেছে। তার মেয়াদকালে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়েছে।
অর্থমন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়া অন্যান্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনকি এমডিদের অপসারণ করার ক্ষমতাও তাদের দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন