আটক নেতাদের তালিকা করছে বিএনপি

0
60
Print Friendly, PDF & Email

আটক নেতাদের মুক্তি চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সেলক্ষেই আটক হওয়া নেতাদের তালিকা তৈরি করছে দলটি। ইতোমধ্যেই অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কাছে আটক নেতাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।   

বিএনপির দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে এই তালিকা। এর আগে বাংলানিউজকে রিজভী তালিকা তৈরির বিষয়টি নিশ্চিতও করেছিলেন।

সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারে আটক নেতাকর্মীর তালিকা প্রায় চূড়ান্তের দিকে রয়েছে।
 
দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিন্ন দুটি তালিকার একটিতে এক বা একাধিক মামলার জেরে আটক নেতাকর্মী ও অন্যটিতে মোবাইল কোর্টে তাৎক্ষণিক সাজা পাওয়া প্রায় ২০০ নেতাকর্মীর নাম সংযোজন রয়েছে।

নয়াপল্টন সূত্রে পাওয়া তালিকার প্রথমটিতে দেখা যায়, গত এক বছরে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন ২০০ নেতাকর্মী।

যাদের মধ্যে ছাত্রদলের ৫৮ জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩১ জন, বিএনপির ৬ জন, যুবদলের ৫৩ জন, শ্রমিকদলের ৩ জনের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।
 
মোবাইল কোর্ট
তালিকায় দেখা গেছে, আটক ২০০ জনের মধ্যে গত এক বছরে মোবাইল কোর্টে সাজা পেয়েছেন ৪৯ জন। এদের কেউ ৬ মাসের সাজা পেয়েছেন, আর কেউ ১ বছর করে।
 
মোবাইল কোর্টে সাজা পাওয়া নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের বলেই তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সংগঠনটির ৪০ জন নেতাকর্মী রয়েছেন।

এই কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত ছাত্রদলের আরও ৯ জন নেতাকর্মী রয়েছেন কাশিমপুর কারাগারে। যাদের ৮ জন কাশিমপুর কারাগারের ২ নং ভবনে এবং অন্যজন ১ নম্বর ভবনে রয়েছেন।
 
কোথায় কত জন?
 
তালিকায় কারাগারে থাকা নেতাকর্মীর নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। কাশিমপুর কারাগারের ১ নম্বর ভবনে ছাত্রদলের ১০ জন, যুবদলের ১৬ জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ১২ জন নেতাকর্মী রয়েছেন বলে তালিকায় দেখানো হয়েছে।
 
জুয়েল ও বাবু একই ভবনে
কাশিমপুর কারাগারের ২ নম্বর ভবনে থাকা ৪৮ জন ছাত্রদল নেতার মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল। এই ভবনে স্বেচ্ছাসেবক দলের গ্রেফতার ১৯ জন নেতা-কর্মীর মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারি বাবু। বিএনপির ৬ জন নেতাকর্মীও রয়েছেন একই ভবনে।
 
২ নম্বর ভবনে যুবদলের গ্রেফতার নেতা-কর্মীর ৩৭ জনের মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট থানা-৩ এর সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান রতন রয়েছেন। রযেছেন শ্রমিকদলের গ্রেফতার ৩ জন নেতা-কর্মীর মধ্যে ধানমন্ডি থানার সভাপতি শাজাহান মাঝিও।
 
সূত্র জানায়, তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত এগুচ্ছে। কেউ যেন বাকি না পড়ে বা সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য দফায় দফায় তালিকাগুলো পর্যালোচনাও করা হচ্ছে।
 
ভিন্ন সূত্র জানায়, তালিকাগুলো চূড়ান্ত হলে নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বা সরাসরি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছানো হতে পারে।
 
সিনিয়র নেতাদের নাম নেই তালিকায়
 
কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তালিকাগুলোতে সিনিয়র পর্যায়ের নেতাদের নাম অবশ্য দেখা যায়নি। যদিও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ উচ্চ ও মধ্যম সারির অনেক নেতাই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। তাদের নাম নেই এসব তালিকায়।
 
কারণ হিসেবে সূত্রের দাবি, বড় নেতাদের আটকের আগেই তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো আরও সংশোধন হবে। তাছাড়া বড় নেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তালিকার প্রয়োজন হয় না।
 
উল্লেখ্য, গত এক বছরে বিএনপির নিহত নেতাকর্মীর পরিবারের সহযোগিতায়, এবং আটক, পঙ্গু, আহত, বাড়িঘরে হামলার শিকার নেতাকর্মীদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ সম্প্রতি শুরু করে বিএনপি। দলটির গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন তালিকা প্রস্তুত করে তার ভিত্তিতে সহযোগিতা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।
 
সূত্র জানায়, আইনি সহায়তা দিয়ে আটক নেতাদের মুক্ত করে আনাই বর্তমানে বেশি জরুরি মনে করছে দলটি। তাই বিএনপি নেতাদের মধ্যে যারা আইনজীবী রয়েছেন বা বিএনপিমনা আইনজীবী রয়েছেন, তারাই এক্ষেত্রে কাজ করবেন।
 
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে এ আইনজীবীরা বিনামূল্যে মামলাগুলো মোকাবেলা করবেন বলে সূত্র জানায়। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও দাবি একই সূত্রের।
 
অপর সূত্র জানায়, নেতাকর্মীদের সহযোগিতার জন্য যে টাকা ব্যয় হবে তা বিএনপিমনা ব্যবসায়ীরাই দিচ্ছেন।

শেয়ার করুন