পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে নির্বাচন কমিশন: সুজন

0
39
Print Friendly, PDF & Email

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচন-প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা রোধ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মুক্তি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজন এই অভিযোগ করে। গত চার পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে সুজন বলেছে, নির্বাচনে সহিংসতার পরিমাণ ও মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় পঞ্চম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুজন। সুজন বলেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা, কারচুপি বন্ধ করতে না পারলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে না। সাংবাদিকদের মাঝে বিলি করা কাগজে বলা হয়েছে, ‘বস্তুত, চলমান সহিংসতার কারণে দেশে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এ পরিস্থিতিতে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটাও অস্বাভাবিক নয়।’
পঞ্চম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ করার জন্য সুজন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ পর্যায়ে ৭৪টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৩৬০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৪ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদের ৩৫৪ জন প্রার্থীর হলফনামার তথ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছয়জন প্রার্থীর তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সুজন পায়নি। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের সহকারী সমন্বয়কারী সানজিদা হক।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শিক্ষাগত তথ্য বিশ্লেষণ করে সুজন বলেছে, ৭৭ জন অর্থাত্ ২১ শতাংশ প্রার্থী বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে পারেননি। ১২১ জন (৩৪ শতাংশ) স্বল্প শিক্ষিত অর্থাত্ তাঁরা এসএসসি পাস বা তার চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন। ১৬১ জন (৪৫ শতাংশ) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
সুজন বলছে, সংসদ ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো উপজেলা নির্বাচনেও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ৩৫৪ প্রার্থীর মধ্যে ২৩০ জন (৬৪ শতাংশ) ব্যবসায়ী। ৬০ জনের (১৬ শতাংশ) পেশা কৃষি। ১২ জন প্রার্থী হলফনামায় কোনো পেশার উল্লেখ করেননি।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের ১১২ জনের (৩১ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, অতীতে মামলা ছিল ১২২ জনের (৩৪ শতাংশ) বিরুদ্ধে। মামলা অতীতে ছিল বা বর্তমানে আছে এমন প্রার্থী ৪৮ জন (১৩ শতাংশ)।
হলফনামা যাচাই করে সুজন দেখেছে, প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ৫৮ জন, ১১ জনের সম্পদ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, ৪৮ জনের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার কম, ৬০ জন ঋণ গ্রহীতা, আটজনের ঋণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, আয়কর দেন ১১৬ জন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কার্যবিধি ১৩১ ধারা অনুসারে সেনাবাহিনীর দৃষ্টির মধ্যে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। কিন্তু চতুর্থ পর্যায়ের নির্বাচনে সহিংসতা রোধে তারা নতুন কোনো মাত্রা যোগ করতে পারেনি। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সেনাবাহিনী কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি। কিন্তু আমরা আশা করেছিলাম।’
গত সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া প্রসঙ্গে সুজনের সম্পাদক বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন কয়েকজন সাংসদের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, যেসব সাংসদ হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন, তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত। তাঁরা দণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছেন।

শেয়ার করুন