কাপাসিয়ায় টেন্ডার কেনা নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হট্টগোল : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও চৌদ্দগ্রামে ছাত্রলীগের তাণ্ডব

0
214
Print Friendly, PDF & Email

দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। এর মধ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এলজিইডির টেন্ডার কেনা নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বিজয় দিবসের বিতর্ক প্রতিযোগিতা আমন্ত্রণ না পেয়ে এবং জেলার চৌদ্দগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
তারা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনকারী কয়েক ছাত্র ও চৌদ্দগ্রামে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে। বিস্তারিত আমার দেশ-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কাপাসিয়া (গাজীপুর)
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসে দরপত্র ক্রয়ে বাধা দেয়ায় গতকাল দুপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মাঝে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটের আওতায় বিভিন্ন কাজের ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকার ১৭টি গ্রুপের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ দরপত্র জমা দানের শেষ দিন। এর আগে ৩ মার্চ পত্রিকার মাধ্যমে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি (নং-০৩/২০১৩-১৪) প্রকাশ করা হয়। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করতে গেলে যুবলীগ ছাত্রলীগের একাংশের নেতারা তাতে বাধা দেয়।
গতকাল দুপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন এলজিইডি অফিসে দরপত্র ক্রয় করতে যায়। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয় যুবলীগের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, আবদুর রব দরজিসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জন। সে সময় তারা কাউকে দরপত্র ক্রয় করতে না দিয়ে বাধা প্রদান করে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে দু’গ্রুপে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অফিসপাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সময় উপজেলা প্রকৌশলী ছাবের আলী তার কক্ষে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তড়িগড়ি করে প্রাইভেট কার যোগে অন্যত্র চলে যায়। এ ব্যাপারে প্রকৌশলী ছাবের আলী জানান, কেউ দরপত্র ক্রয় করতে চাইলে কিনতে পারে। নিরাপত্তার জন্য থানায় খবর দেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা (উত্তর)
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী বিতর্ক উত্সবে আমন্ত্রণ না করায় ‘ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদের সংগঠকদের মারধর করেছেন ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জিয়া মিলনায়তনে ওই ঘটনা ঘটে। এতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানিয়েছেন, সকাল ১১টায় কলেজের জিয়া মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আছাদুজ্জামান। এতে সভাপতিত্ব করেন ভিক্টোরিয়া কলেজ বিতর্ক পরিষদের মডারেটর ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী।
অনুষ্ঠান চলাকালে মিলনায়তনে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের কলেজ শাখার কর্মী ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাকিল, অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বাপ্পি ও বহিরাগত খোকনসহ ২০-২৫ জন ছাত্রলীগের কর্মী। তারা চিত্কার চেঁচামেচি করতে করতে মঞ্চে হামলা চালায়। একপর্যায়ে বিতর্ক পরিষদের সভাপতি মো. ইসরাফিল, সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ রহিম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামকে মিলনায়তনের দোতলায় তুলে নিয়ে মারধর করেন। তখন আতঙ্ক ও ভয়ে মিলনায়তন ভর্তি শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে ওই অনুষ্ঠান ভণ্ডল হয়ে যায়।
কলেজ বিতর্ক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ রহিম বলেন, ‘বিতর্ক পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আমি হলে থাকি, কী কারণে পণ্ড হলো কিংবা মারধর করা হলো তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমার অসুবিধা হবে।’
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের কর্মী সাইফুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৬ মার্চ কলেজের একাদশ শ্রেণীর মানবিক বিভাগের শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এক ছাত্রের পায়ে গুলি করার ঘটনা রয়েছে। তাছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলালের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর (ফেরিঘাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় হেলালের বোন রোখসানা আক্তার গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গতকাল বিকাল ৩টায় লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় মুজিব সেনা ক্লাব কর্তৃক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভা পণ্ড করতে ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত দুইটায় চারটি মোটরসাইকেলযোগে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী হেলালের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করে। একপর্যায়ে তারা গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে দরজা-জানালার গ্লাস ও উঠানে থাকা ৪০-৫০টি চেয়ার ভাংচুর করে ঘরের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। অস্ত্রধারীদের গুলিতে হেলালের বোন রোখসানা আক্তার গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে ফেনীর একটি ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ছুটে এলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। জনতা ছাত্রলীগ কর্মী পার্শ্ববর্তী পূর্ব ডেকরার সালাউদ্দিন, রিয়াদ, লক্ষ্মীপুরের মামুন ও শিলবির শুভকে চিনতে পারে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের গ্রেফতার দাবিতে জনতা ভোর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে কিছুক্ষণ সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে জনতা ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। অপরদিকে হামলার কারণে নির্ধারিত সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। এ ঘটনায় এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় জনগণ যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে আ.লীগ নেতা গোলাম ফারুক হেলাল সাংবাদিকদের জানান, ‘বিগত ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও এলাকায় স্থানীয়ভাবে আ.লীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে সভা ডাক দেয়ার জেরে বর্তমান চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
বর্তমান আলকরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চু এ ঘটনার সঙ্গে তার ও তার দলের কেউ জড়িত নয় দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, হেলালের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বিগত ইউপি নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের ব্যানারে ভোট করি। কিন্তু সে জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে বিদ্রোহী হিসেবে হেরে যায়। এরপর থেকে সে দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে সে নিজেই এ নাটক সাজিয়ে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। উল্টো তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাতে একই সময়ে কুলাসার গ্রামের ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে হেলালের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়।

শেয়ার করুন