এক দশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত ২ হাজার

0
109
Print Friendly, PDF & Email

গত এক দশকে (২০০৪-২০১৪) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২ হাজার ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে একটি মানবাধিকার সংগঠনের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তালিকার অধিকাংশ ব্যক্তিই মারা গেছেন কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে পুলিশের হাতেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বেশি। এরপরই রয়েছে র্যাব।
পুলিশ হেফাজতে পিটুনি এবং আত্মহত্যায় মৃতের সংখ্যাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় দেখা গেছে, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে র্যাবের হাতে ৭৯৯ জন মারা গেছেন। একই সময় পুলিশের হাতে মারা গেছেন ১ হাজার ১২ জন।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে র্যাবের হাতে ১৩ জন ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জন মারা গেছেন। ২৪৩ জন মারা গেছেন বিভিন্ন বাহিনী বা যৌথবাহিনীর হাতে।
এই তালিকার ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘তারা (আসক) কিসের ভিত্তিতে এ তথ্যের তালিকা প্রস্তুত করেছে সেটি স্পষ্ট নয়।’
‘আমি যতদূর জানি ও বিশ্বাস করি পুলিশ আইনের আওতায় থেকেই দায়িত্ব পালন করে। আইনের লঙ্ঘন হয়, এমন কিছু তারা করে না।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তদন্ত এবং তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিচালক মো. নূর খান জানান, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে তথ্য সংরক্ষণ করে এ তালিকা করা হয়েছে।
এ বছর ২৬ মার্চ র্যাব প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্ণ হলো। এ সময় জঙ্গি দমনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই বিশেষ বাহিনী সফল হলেও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বিতর্ক থেকে নিজেদের সরাতে পারেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘র্যাব’ নামের আলাদা আরেকটি প্রকাশনায় এই বাহিনীর হাতে নিহতদের তালিকা দেয়া হয়েছে। তালিকায় ২০০৪ থেকে ২০১১ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই বাহিনীর হাতে নিহত ৬২৮ জনের নাম রয়েছে। নতুন তালিকার ৭৯৯ জনের সঙ্গে এটি তুলনা করে দেখা গেছে, গত প্রায় আড়াই বছরে র্যাবের হাতে ১৭১ জন মারা গেছেন।
এ ব্যাপারে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেউ কেউ র্যাবের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’কে ‘ক্রসফায়ার’ নাম দিতে পারেন। আবার নিহতদের তালিকা সংরক্ষণ করে প্রকাশও করতে পারেন। তবে র্যাব আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করে।
‘বাস্তবতা হলো কেউ যখন র্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে, তখন তো র্যাব গুলি না করে চুপ করে থাকবে না।’
এই তালিকা প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘কে কিভাবে তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকাশ করল সেটি বিবেচ্য নয়। দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়, এটিই সত্য কথা। এটি অস্বীকার করার সুযোগ কারো নেই।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ কিছুটা সংশোধন করা হলে কমিশনই এসব হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করতে পারবে বলে তার বিশ্বাস।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তদন্ত এবং তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিচালক মো. নূর খান মনে করেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তদন্তে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন হওয়া দরকার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা কাজ করেন আইনের আওতায় থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

শেয়ার করুন