কী করবে আজ বাংলাদেশ

0
41
Print Friendly, PDF & Email

অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল : মোহাম্মদ শরীফ
মানসিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। দল যত খারাপ করবে, ক্রিকেটারদের ওপর চাপ তত বাড়বে। তবে বাংলাদেশের ওপর বোধ হয় স্মরণকালের বড় চাপটাই যাচ্ছে এ মুহূর্তে। অতীত দেখলে টি-২০ বিশ্বকাপের এমনপর্যায়ে ভালো রেজাল্টের নজির নেই। নিজ দেশ, পরিচিত কন্ডিশন বলেই জয়ের প্রত্যাশা বেশি। এ চাপ অবশ্য বেড়ে গেছে হংকংয়ের সাথে হারের পরই। আজ প্রতিপক্ষ ভারত। কিন্তু সর্বত্রই ঘুরে ফিরে প্রশ্ন। কী করবে আজ মুশফিক, সাকিবেরা? কী করবে আজ বাংলাদেশ? ভারতকে পেলেই টিম বাংলাদেশ থাকে অন্য ভূমিকায়! মনোবল থাকে তুঙ্গে। সেখানে কি না আজ তারা ব্যস্ত নিজেদের নিয়েই। একটু ব্যতিক্রম আছে বৈকি! প্রতিপক্ষ নয়, সব ভাবনা যেন নিজেদের নিয়েই। কাল বিকেলে অনুশীলন করছিলেন তারা বিসিবি অ্যাকাডেমি মাঠে। এক কোনে তিন সিলেক্টর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আলাপরত। দেখছেন, ক্রিকেটারদের অনুশীলন। আগের ম্যাচে চার পরিবর্তন। এমন পর্যবেক্ষণে কিছুটা টেনশন ক্রিকেটারদের ওপর পড়া স্বাভাবিক। অবশ্য কোচ শেন জার্গেনসেন খেলোয়াড়দের রুটিন ব্যাটিং-বোলিংয়ের শিডিউল দিয়ে যাচ্ছেন। ক্রিকেটারদের মধ্যেও নেই কোনো প্রাণ। অন্য সময়ে তাদের একে অপরের মধ্যে দেখা যায় একটা সৌহাদ্যপূর্ণ অবস্থান। না! কাল দেখা গেল সবাই যেন কেমন অজানা এক হতাশায় নিমজ্জিত। প্র্যাকটিস করছেন ঠিকই। কিন্তু নিরুত্তাপ। যেন কোনোক্রমে সময় পার করা। অস্ট্রেলিয়া বা বড় দলগুলো সময় পেলে ব্যাটিং-বোলিংয়ের অনুশীলন রেখে গলফ বা অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। মানসিকভাবে চাপ মুক্ত হওয়ার জন্য। বাংলাদেশ দলে অমন কিছু করার সুযোগই নেই। ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করে যাও। কাল ভালো খেলতে হবে? ক্রিকেটই তো। এটা জব্বারের বলী খেলা বা কুস্তি নয়। জোর-জবরদস্তি করে ম্যাচ জিতে যাওয়া যায়? বাংলাদেশ দলকে এখন সবাই প্রেসারে রেখেছে ম্যাচ জেতার জন্য। ২৬ মার্চ বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যে কথাগুলো জনসমক্ষে বলেছেন, তাও ক্রিকেটীয় রীতিতে বড্ড বেমানান। বিশ্বকাপের সুপার টেনের চার ম্যাচের এক ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচের আগে তিনি যে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন তা বিস্মিত করেছে ক্রিকেটপাড়াকে। এই ক্রিকেটারেরাই নিউজিল্যান্ডকে দুইবার হোয়াইট ওয়াশ করেছে। এশিয়া কাপের গত আসরের আগেরটিতে ভারত, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালে খেলে রানার্সআপ। ‘ব্যাটপ্যাচ’ বলে একটা কথা আছে খেলোয়াড়দের বেলায়। ক’দিন আগেও ভারতের মতো দল হেরেছে টানা আট ওয়ানডে ম্যাচে। এরপরও তারা উঠে এসেছে। এখন এগিয়েও যাচ্ছে। বাংলাদেশ কি অত বাজে অবস্থায় পড়েছে? বোধ হয় না। খেলোয়াড়দের মুখের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাদের বয়স কত? প্রত্যেকের গড়ে ২৫ বছরের নিচে। তাদের ঘরেও বাবা-মা সান্ত্বনা দেন ভুল করলে। বলেন, হয়নি এগিয়ে যাও। হবে। কিন্তু এসব ক্রিকেটারের ওপরই দেয়া হলো প্রচণ্ড চাপ। ভালো না খেললে দল থেকে বাদ! এটা সত্য কথা। কিন্তু গোপন এ কথাটা প্রকাশ্যে বলার প্রয়োজন কী ছিল, সে প্রশ্ন কে করবে? এটা তো নর্মাল একটা প্রসেস। আগ বাড়িয়ে কেন এমন কথা বলা? প্রকাশ্যে যখন বোর্ড সভাপতি এগুলো বলেন, তখন প্রতিপক্ষরা এ নিয়ে সুযোগও পেয়ে যান। যেমন কাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় সাংবাদিকেরা মাশরাফিকে এ মন্তব্যগুলো নিয়েই অপ্রাসঙ্গিক অনেক প্রশ্ন করলেন। এমন ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ভড়কে দেয়ারও এটা একটি কৌশল, যা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিকেরাও করেন। টি-২০ ম্যাচ রেখে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কথার উত্তর দেয়ার জন্যও চাপ দেয়া হয়েছিল। সব দেশের দলের সাথে থাকেন সে দেশের একজন মিডিয়া ম্যানেজার। বাংলাদেশ দল বরাবর অমন একজন রাখলেও এবার অজ্ঞাত কারণে নেই। আইসিসির লোকজন সংবাদ সম্মেলন সামাল দিচ্ছে বাংলাদেশের। ফলে পক্ষে-বিপক্ষের সাংবাদিকেরা ইচ্ছেমতো প্রশ্ন করে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন মাশরাফিকে। প্রায় ১৭ মিনিটের মতো নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হলো তাকে। পক্ষান্তরে পাঁচ মিনিট পর ভারতের রোহিত শর্মা কথা বলার আগে মিডিয়া ম্যানেজার প্রথম ঘোষণা দিয়ে দেনÑ টি-২০-র বাইরে কোনো প্রশ্নই যেন না করা হয়! সেটাই হলো। অথচ ভারতের বিপক্ষে যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তার দু’টিতেই মাশরাফি ছিলেন ম্যাচ সেরা। তা ছাড়া ভারতকে পেলে মাশরাফিই একটু অন্যরকম হয়ে যান। সে পারফরমারকে এভাবে ম্যাচের আগের দিন বিব্রত করে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়ার সুযোগটাও পেল বিসিবির দুর্বলতার সুযোগে। প্রফেশনাল বোর্ডের অপেশাদার কাজে অন্যতম ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ দলের পেছনে হাঁটার ব্যাপারে। ক্রিকেট হলো সবার সহযোগিতার মাধ্যমে খেলার একটা গেম। অথচ বিশ্বকাপের মতো এমনপর্যায়ে বিভিন্ন সেক্টর থেকে আঘাত পাওয়া মুশফিক, সাকিবেরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন বিভিন্ন দিক থেকেই।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রিভিউতেও নানা কারণে চলে এলো অপ্রাসঙ্গিক ওই কথাগুলো। যেখানে দুই দলের রেকর্ডসহ কী টার্গেট সেগুলো লেখার কথা, সেখানে বলা হলো অন্য কছু! আসলে নিজ দেশের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স সবই যেন এলোমেলো। এ দুই দলের মধ্যে একবারই সাক্ষাৎ হয়েছে টি-২০ ভার্সানে। তা ২০০৯ এর বিশ্বকাপে নটিংহ্যামে। সেখানে প্রথম ব্যাটিং করে ভারতের ১৮০ রানের বিপক্ষে বাংলাদেশ করেছিল ১৫৫/৮। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ যে খেলা হয় তা এশিয়া কাপে। ফতুল্লার সে ম্যাচেও ভালোই খেলেছিল বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ২৭৯/৭ (এনামুল ৭৭, মুশফিক ১১৭) করার পরও ভারত জিতে যায়। তবে মিরপুর শেরেবাংলায় দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ কিন্তু জয়টা বাংলাদেশেরই। তা ২০১২ এর এশিয়া কাপে। মাশরাফি অবশ্য অতীত কোনো কিছু টেনে আনতে নারাজ। নতুন ম্যাচ। ফ্রেস ম্যাচ। এখানে ভালো খেলতে হবে আমাদের। আর ভালো খেলতে পারলেই জয় পাবো তাও সত্যি। তবে বাংলাদেশ কিছু টেকনিক্যালভাবেই এগোচ্ছে, যা মাশরাফির কথায় বোঝা যাবে। অন্য দিকে টানা দুই ম্যাচে জিতে ভারত ফুরফুরে অবস্থায়। এ ম্যাচে জিতলেই সেমিফাইনাল কনফার্ম হয়ে যাবে। দলের অন্যতম ক্রিকেটার রোহিত শর্মা জানালেন, তারা কোনোরকম রিল্যাক্স নয় এ ম্যাচে। হোমে খেলবে বাংলাদেশ। এখানে তারা ভালো খেলে। তা ছাড়া জয়টা তাদের বড্ড প্রয়োজনও। রান রেটের কোনো হিসাব মাথায় থাকবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগে জিততে চাই। রান রেট এমনিতেই চলে আসবে। না জয় পেলে তো ওগুলো নিয়ে কোনো লাভ হবে না।

শেয়ার করুন