যেভাবে পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ

0
58
Print Friendly, PDF & Email

টিকা নিলে প্রতিরোধ করা যায়, এমন রোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধ ৫০-এর দশকের শেষ থেকে। তবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির শুরু ১৯৭৯ সালে। আর পোলিওমুক্তির ঘোষণা পেতে বাংলাদেশকে সংগ্রাম করতে হলো টানা ৩৫ বছর।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য শুভদিন।

বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের ১১টি দেশকে আজ পোলিওমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সংস্থা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য, রোগতত্ত্ব, ভাইরোলোজি, ক্লিনিকাল মেডিসিন এবং সংশ্লিষ্ট আরও কটি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই কমিশন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে পোলিওমুক্ত ঘোষণা দেওয়া যায় বলে মত দেয়।

এরই ফলে দিল্লিতে হু-র আঞ্চলিক কার্যালয়ে পোলিওমুক্ত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। হু সারা বিশ্বকে ছয়টি অঞ্চলে ভাগ করেছে। পোলিওমুক্ত অঞ্চল হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলের দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও পূর্ব তিমুর।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং অঞ্চলটিকে পোলিওমুক্ত রাখতে অগণন মাঠকর্মীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছেন। সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

হু-র কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে পোলিও টিকা মুখে খাওয়ানো হতো। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ অঞ্চলটিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান থুসারা ফার্নান্দো বলেছেন, ‘পোলিওমুক্ত অঞ্চলের স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি অসাধারণ। তবে আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়ে যায়নি। গোটা বিশ্বকে পোলিওমুক্ত করার যে সংগ্রাম, তাতে আমরা শামিল হব।’

বাংলাদেশ অনন্য উদাহরণ: ৫০-এর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রথম যক্ষ্মা প্রতিরোধে টিকার প্রবর্তন হয়। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি চালু করে দেশটির সরকার। সেই থেকে দেশটিতে সরকার বদল হলেও পোলিওমুক্তির সংগ্রামে একযোগে কাজ করেছে সবাই। ১৯৮৫ সালে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের পোলিও টিকা  খাওয়ার হার ছিল ২ শতাংশ। ঠিক ১০ বছরের মাথায় এই হার গিয়ে দাঁড়ায় ৬০ শতাংশে। এ বছরের গোড়াতে শতভাগ শিশুকে পোলিও টিকা খাওয়ানো সম্ভব হয়েছে।

২০০০ সাল থেকে টানা ছয় বছর বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত ছিল । কিন্তু ২০০৬ সালে সীমানা পেরিয়ে পোলিও ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ব্যাপকভিত্তিতে পোলিও টিকা খাওয়ানো শুরু হয়। ২০০৬ সালের পর গত সাত বছরে আর কোনো সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। ২০১১ সালে ভারতে আবার পোলিও সংক্রমণের কারণে অঞ্চলটিকে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হলো।

হু বলছে, বাংলাদেশ সারা বিশ্বে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য সুবিখ্যাত। সারা দেশের ছয় লাখ টিকাদানকর্মী নিরলস কাজ করেছেন দেশটিকে এই সফলতা এনে দিতে।

শেয়ার করুন