তাঁবেদারি-মোসাহেবি মুক্ত প্রশাসন চাই

0
118
Print Friendly, PDF & Email

স্বাধীন বাংলাদেশের সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন দলবাজি, তালাফি-তদবির, তাঁবেদারি, মোসাহেবি থেকে মুক্ত থাকবে এমন স্বপ্ন দেখেন সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন। তবে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এ স্বপ্ন পূরণের আশা খুবই সীমিত বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন সাবেক এই সফল সরকারি কর্মকর্তা। কেমন প্রশাসন চান- স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জানতে চাইলে নিজের এ স্বপ্ন ও আশঙ্কার কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান মুক্তিযোদ্ধা ড. সা’দত।

১৯৭১ সালের ২২ মে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রমের আগে আশি মাইল হেঁটে অতিক্রম করেছেন সা’দত হুসাইন। বললেন, সেই দিনগুলোয় স্বাধীনতাই একমাত্র কাম্য ছিল। ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে ভাবনা ছিল না। কিন্তু স্বাধীনতার পর পরই প্রশাসন নিয়ে ভাবনা শুরু হয়। কিছু পদেক্ষপও নেওয়া হয়। কিন্তু আমি মনে করি ‘৭২-এর পর কোনো সরকারই প্রশাসনকে নিজের মতো চলতে দেয়নি, যে কারণে মেধাশূন্য প্রশাসন আজ একটি অতিপরিচিত বাক্য হয়ে সামনে চলে এসেছে। তিনি বলেন, জন্মলগ্ন থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত অনেক সরকার ও নানাবিধ সরকারব্যবস্থা দেখেছে। পার্লামেন্টারি পদ্ধতির গণতান্ত্রিক সরকার, রাষ্ট্রপতিশাসিত গণতান্ত্রিক সরকার, শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় রাষ্ট্রপতিশাসিত একদলীয় সরকার, শক্তিবলে অধিষ্ঠিত পার্লামেন্ট সমর্থিত রাষ্ট্রপতিশাসিত কর্তৃত্ববাদী সরকার, সামরিক আইনভিত্তিক সামরিক সরকার, গণশক্তিভিত্তিক জাতীয় ঐকমত্যের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, শাসনতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেনা সমর্থিত (নিয়ন্ত্রিত) অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সব শেষে শূন্যগর্ভ আমলাতান্ত্রিক সরকার সবই বাংলাদেশে ছিল। এতগুলো সরকারের মধ্যে একটি সরকারও তত্ত্বভিত্তিক বা বৈজ্ঞানিক নীতিমালার আলোকে আন্তরিকতার সঙ্গে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে যথোপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করে দেশের উচ্চপদগুলো পূরণের ব্যবস্থা করেনি। বরং ক্ষমতাধর ব্যক্তি কিংবা ক্ষমতাচক্র, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, আপনজন, পরিচিতজন, লোকমুখে শোনা এবং পত্রপত্রিকা থেকে নাম জানা ব্যক্তিদের বেশির ভাগ উচ্চপদে অধিষ্ঠিত করেছে। সাধারণত দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রতারণা ও দলবাজির মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিরা উচ্চপদ দখল করে বসে। নির্বাচন, নিয়োগ পরীক্ষা, পদোন্নতি, সার্চ কমিটির বাছাই প্রক্রিয়া কিংবা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষে থাকা ব্যক্তির একক পছন্দের মাধ্যমে সুউচ্চপদগুলো পূরণ করা হয়। অযোগ্য ব্যক্তিরা নানান অপকৌশল ব্যবহার করে পদ্ধতি-প্রক্রিয়াকে ভেঙে এবং বিকৃত করে ওপরের পদ দখল করছে। দলবাজি, তালাফি-তদবির, তাঁবেদারি-মোসাহেবি এ ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক। ড. সা’দতের মতে, প্রশাসনের উচ্চপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, তার পিতা-মাতার প্রাসঙ্গিক সাধারণ তথ্য এবং তার নিজের জীবনের সামগ্রিক তথ্যাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পরই নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে নবনিযুক্ত ব্যক্তির আওতাধীন প্রতিষ্ঠান যথার্থই কার্যকর হবে এবং মানুষ সরকার তথা রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর শ্রদ্ধাশীল হবে। দেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটবে।

শেয়ার করুন