মিডিয়াকে পাশে চায় বিএনপি

0
63
Print Friendly, PDF & Email

‘বিএনপি মিডিয়াবান্ধব নয়’, ‘খালেদা জিয়া মিডিয়ার প্রতি উদাসীন’- প্রচলিত এ অভিযোগগুলো এবার দূর করতে চায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটি। মিডিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির জন্য তাই নেওয়া হয়েছে বেশকিছু পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় দলের দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের বক্তব্যে। বাংলানিউজ।

তিনি বলেন, শীঘ্রই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশ-বিদেশের মিডিয়াপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রিজভী বলেন, বিএনপি বরাবরই মিডিয়াবান্ধব ও মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিএনপি যেহেতু গণমানুষের দল, তাই সব পেশার মানুষের পরামর্শকে তারা গুরুত্ব দেয়। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক বলেই তাদের পরামর্শের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি আস্থা রাখতে হয়। তাই মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। সূত্র জানায়, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানই মূলত এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা ও কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অনুরোধ ও নিজের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, সে লক্ষ্যেই খালেদা জিয়া বিভিন্ন মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন যে কোনো দিন। শুধু খালেদাই নন, গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া হাউসগুলোয় সশরীরে গিয়ে সম্পর্কোন্নয়নের কাজ শুরু করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। এ ছাড়া রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসা সব সাংবাদিকের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছেন রুহুল কবির রিজভী। পরিশ্রমী ও ত্যাগী এ নেতার সহযোগিতা ২৪ ঘণ্টাই পাওয়া যায় বলে অনেক সাংবাদিক প্রশংসাও করেন।

গত মাসে খুব কাছাকাছি সময়ের ব্যবধানে রিজভী দুটি ভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন। এতে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্পর্ক সুগঠিত করতেই তার এ উদ্যোগ বলে নয়াপল্টন কার্যালয় সূত্র জানায়। দলের এক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে দূরত্বের শাস্তি আমরা পেয়েছি। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে যখন কিছুতেই বাসা থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছিল না, তখন মিডিয়াকর্মীরা নিজ উদ্যোগেই খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রচারের সুযোগ তৈরি করে নেন। ‘অথচ বিএনপি বিটের রিপোর্টারদের সঙ্গে কখনো খোলা মনে কথা বলেননি। তা করলে হয়তো তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ত। এর আগে সাংবাদিকদের গুলশানের বাসায় আসতে বলে পরে দেখা করেননি তিনি, যা অনেকেই অপমান হিসেবে নিয়েছেন’, বলেন এই নেতা।

এসব দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক এগিয়ে বলেও এই নেতা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা নিজে থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, কুশল বিনিময় করেন। ওই বিটের রিপোর্টারদের নাম ধরে সম্বোধন করেন ও তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেন বলেও শুনেছি। এটা আমাদের নেত্রী করলে পরিস্থিতি অনেকটাই আমাদের অনুকূলে থাকত। ২৯ ডিসেম্বরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করা বিএনপি বিটের একজন সাংবাদিক বলেন, সেদিন (২৯ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়া বারবার আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। অবাক হয়েছিলাম। এত দিন কাজ করি বিএনপি বিটে। বরাবর মিডিয়ার প্রতি খালেদা জিয়ার উদাসীনতা দেখেছি। কিন্তু ওইদিন তাকে অনেক অসহায় দেখাচ্ছিল। সে সময় তার বিক্ষুব্ধ আচরণও অসহায়ত্ব ঢাকার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি অনুধাবন করা গেছে ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। ‘কারচুপির’ ওই নির্বাচনের চিত্র কিছু মিডিয়া তুলে ধরলেও অনেকেই ছিল নীরব। সেদিনই আমরা বুঝেছি, বিরোধী দলে থেকে মিডিয়ার প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন না থেকে বড় ধরনের বোকামি হয়েছে। মিডিয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে সহযোগিতা আশা করা ঠিক নয়।

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের পরিবেশেও কিছুটা আন্তরিকতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিটের একাধিক রিপোর্টার। তারা জানান, আগে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত না সেভাবে। খুব প্রয়োজনীয় অনেক তথ্যও যাচাই করা যেত না। ইদানীং কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। কিছুটা হলেও এ স্থবিরতা কাটছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে খালেদা জিয়াও কথা বলেছেন। একই সঙ্গে দলের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতাকে দেশ-বিদেশের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো ও যোগাযোগের তাগিদ দেন তিনি। বৈঠক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি মিডিয়ার প্রধানদের কাছে সহযোগিতা চাইবেন।

শেয়ার করুন