জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট: তারেক

0
46
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে বিতর্কিত অবস্থানে নিয়ে আসার পিছনে অন্য কোন দল দায়ী নয়, একমাত্র দায়ী আওয়ামী লীগ। তার দলের নেতবৃন্দ ও তার দল তাকে ছোট করেছে। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের জন্য আন্দোলন করেছেন তাকে আমরা সেই শ্রদ্ধা ও সম্মান করি তবে তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের নেতা সম্পর্কে মিথ্যে কথা বলবে, অসম্মান  করবে আর ইতিহাস সম্পর্কে জাতিকে মিথ্যে তথ্য দিবে। শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাকি দেননি এ বিষয়ে বিএনপি কোন প্রশ্ন তুলেনি, এ প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামী লীগ।  তাকে বিতর্কিত অবস্থায় নিয়ে এসে নিচে নামানোর দায় দায়িত্ব এককভাবে আওয়ামী লীগের, অন্য কারো নয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দেড় টায় পূর্ব লন্ডনের রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।  

জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট দাবি করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে সঠিক ইতিহাস জানাবার সময় এসেছে। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এটাই সত্যি, এটাই ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ  জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার  মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ  যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের। কিন্তু তারা তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। মার্চ মাস থেকে যে বাংলাদেশ স্বাধীন তারা শুধূ সে ঘোষণা দিতেই ব্যর্থ হয়নি, তারা সেদিন বাংলাদেশের ৭ কোটি মানুষের মনের ভাষা বুঝতেও ব্যর্থ হয়েছিল । তিনি বলেন শহীদ জিয়া ৭ কোটি মানুষের মনের কথা বুঝতে পেরে তখনকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতার পর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি কারো পাঠানো নয় বরং নিজের হাতে ড্রাফট করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের ২৬শে  মার্চ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন ।
যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, বিএনপি নেতা  ড. মুজিবুর রহমান।  অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মালিক, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার বদরুদ্দোজা বাদল, লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ব্যারিষ্টার কায়ছার কামাল, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর।
সভায় তারেক রহমান বলেন,  আজ আমরা অনেককেই বলতে শুনি শেখ মুজিবুুর রহমান নাকি ৭ই মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এটি কোন বিতর্কের বিষয় নয়, এটি হচ্ছে প্রমাণের বিষয়, ইতিহাসের বিষয়। তিনি যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে জোরালো কোন প্রমাণ নেই, কিন্তু  তিনি যে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি সে সম্পর্কে যথেষ্ট যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি  যদি ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকতেন তাহলে তার প্রায় ৪৫ দিন পর  ১৭ এপ্রিল যে মুজিবনগর সরকার গঠন হয়েছিল সেটি হবার কথা ছিল ৮ই মার্চ। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ শেষে শেখ মুজিব নেতৃবৃন্দকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবার কথা না বলে আলোচনার মাধ্যমে কেবিনেট গঠন করার কথা বলতেন। তখন সেটাই স্বাভাবিক ছিলো। তারেক বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা যদি তিনি করতেন তাহলে তার পরবর্তী দায়িত্ব ছিল দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, নতুন সরকার গঠন করা । কিন্তু ৮ই মার্চের পর এ রকম কিছুই চোখে পড়েনি।
১৯৭১ সালের ৮ মার্চের ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার ফটোকপি দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, সে সময় ইত্তেফাকের মালিক মরহুম মানিক মিয়ার সাথে শেখ মুজিবের ভাল সম্পর্ক থাকার পরও ৭ই মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার কোন সংবাদ সেদিন ছাপা হয়নি। শেখ মুজিব যদি স্বাধীনতার ঘোষণা করেই থাকতেন তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষের পত্রিকা ইত্তেফাকে সেদিন শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল ‘ বাংলাদেশ স্বাধীন‘ বা ‘ শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন’ ইত্যাদি। কিন্তু সেদিনের হেডিং ছিল ‘ পরিষদে যাবার প্রশ্ন বিবেচনা করিতে পারি যদি..’। আর সাব হেডিং ছিল ‘ সামরিক আইন প্রত্যাখান করো, জনপ্রতিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করো, সৈন্যদের ছাউনীতে ফিরিয়ে নাও,  এবং নাগরিক হত্যার তদন্ত চাই। তিনি বলেন এসবই আরেকজনের কাছে চাওয়া। স্বাধীনতার ঘোষণা করলে দেশের প্রধান হিসেবে শেখ মুজিবের কারো কাছে কিছু চাওয়ার দরকার ছিলো না।
তারেক বলেন, মুজিব ইয়াহিয়া বৈঠকে সে সময় ৪ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এগুলো হলো  সামরিক সরকার প্রত্যাখান, এবং প্রেসিডেন্টের ঘোষণা বলে সামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্থানের বিভিন্ন প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকিবেন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হবেন, প্রথমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্থানের জাতীয় পরিষদের সদস্যরা পৃথক পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং পরে  যৌথ অধিবেশনে পাকিস্থানের শাসনতন্ত্র চুড়ান্ত করবেন। তিনি বলেন, যদি ৭ই মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকেন তাহলে ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকা ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হবার প্রস্তাব আসে কি করে। দফায় দফায় আলোচনার আড়ালে ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশীদের হত্যার জন্য যে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করলো তা তখনকার বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা বুঝতে পারলেন না। তিনি বলেন এসবে তাদের কোন খেয়াল ছিলো না কারণ তখন সমঝোতার মাধ্যমে শেখ মুজিব পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের নয়।  

তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব নাকি ৩২ নম্বর ধানমন্ডি থেকে চিরকুটের মাধ্যমে ওয়ারলেসে  চট্টগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন। তিনি ৫/৬ মাইল দুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থানরত শতাধিক বিদেশী  সাংবাদিকদের কাছে চিরকুট না পাঠিয়ে কেন দুইশ’ মাইল দূরে চট্টগ্রামে তা পাঠালেন? এতেই প্রমাণিত  হয় – এটা মিথ্যে কথা।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের  ইত্তেফাকের একটি কপি দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২৪ মার্চে আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে চারজন নিহত হবার পর ২৫ তারিখ বিভিন্ন পত্রিকায় শেখ মুজিব একটি বিবৃতি পাঠান। ইত্তেফাক এই বিবৃতির হেডিং দিলো ‘এ গণহত্যা বন্ধ কর’ আর সাব হেডিং দিলো ২৭ শে মার্চ সমগ্র বাংলাদেশে সর্বাতœক ধর্মঘট’। তারেক রহমান বলেন ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ২৭ মার্চ শেখ মুজিবের ধর্মঘটের ডাক সত্যিই হাস্যকর।  
নেতাকর্মীদের  উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামীলীগ বছরের পর বছর ধরে জাতিকে যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে তা রুখে দাঁড়াতে হবে, আর সেজন্য আপনারা এসব পয়েন্ট মনে রেখে জাতিকে সঠিক ইতিহাস বলবেন, একবার না, দুই বার না, হাজার বার বলবেন। আওয়ামী লীগের মিথ্যাচার  আমরা কিছুৃতেই  মেনে নিতে পারি না।
২৬ মার্চ দেশ স্বাধীনতা ঘোষণার স্বপক্ষে তারেক বলেন,  দেশ স্বাধীন হবার শেখ সাহেব দেশে আসার পর হতে কখনোও ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন হয়নি, কোন বিবৃতি বা বক্তব্যে শেখ মুজিব ২৬ মার্চের পরিবর্তে ৭ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস বলেননি। এর মানে শেখ মুজিব নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন স্বাধীনতা দিবস ৭ মার্চ নয়, ২৬ মার্চ। সুতরাং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৪৩ বছরের ইতিহাসে  ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন হয়েছে, কখনো ৭ মার্চ  স্বাধীনতা দিবস পালন হয়নি।
আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা ৭ মার্চ শেখ মুজিবের  স্বাধীনতার ঘোষণার কথা বলেন তাদেরকে ঐতিহাসিক দলিল ও যুক্তির মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন বাংলাদেশের সমস্ত মানুষকে এই প্রশ্নগুলো বিবেচনা করতে হবে, সঠিক উত্তর বের করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের ইতিহাস জানা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন