বাংলাদেশ গাইবে, জানবে বিশ্ব

0
51
Print Friendly, PDF & Email

প্রস্তুতি শেষ। গাইবে বাংলাদেশ, জানবে বিশ্ব। ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ গেয়ে গড়া হবে বিশ্ব রেকর্ড।
জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে তিন লাখের বেশি মানুষ একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গেয়ে গড়বে সর্বাধিকসংখ্যক মানুষের একত্রে জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই আয়োজনটি বাস্তবায়ন করছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহায়তায়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষার্ধে সারা দেশে ‘লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা’ কর্মসূচি নিয়ে কর্মতৎপরতা শুরু হয়। শুদ্ধ করে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য, সঠিক সুরে গাওয়া জাতীয় সংগীতের অডিও রেকর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। সেই অডিও থেকে সঠিক সুরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার প্রশিক্ষণ ও মহড়া হয়েছে সারা দেশে।
আজ ঢাকার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে একই সময়ে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষ যেন জাতীয় সংগীত গাইতে পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত গাওয়ার রেকর্ড এখন ভারতের। সাহারা গ্রুপের আয়োজনে এক লাখ ২২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে গত বছরের ৬ মে এই বিশ্ব রেকর্ডটি হয়েছিল। আজ জাতীয় প্যারেড ময়দানে তিন লাখের বেশি মানুষ একসঙ্গে জাতীয় সংগীত গেয়ে স্থাপন করতে যাচ্ছে নতুন বিশ্ব রেকর্ড।
বিশ্ব রেকর্ডের জন্য লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া শুরু হবে আজ বেলা ১১টায়। গাওয়া হবে গানটির প্রথম ১০ লাইন। তিনবার গাওয়ার সুযোগ থাকবে। সংগীত পরিচালনা করবেন বিশিষ্ট সুরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুজেয় শ্যাম।
গিনেস বুকের পর্যবেক্ষকেরা লক্ষ রাখবেন গানের সঙ্গে সবাই ঠোঁট মেলাচ্ছেন কি না। যদি শতকরা পাঁচজন লোকও কণ্ঠ না মেলান, তবে রেকর্ডের জন্য এই আয়োজনটি বিবেচিত হবে না। কাজেই উপস্থিত সবাইকে গলা ছেড়ে গাইতে হবে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।
বিশ্ব রেকর্ড গড়ার এই অনুষ্ঠানে ১৩ বছরের বেশি বয়সী (শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণী উত্তীর্ণ) সবাই অংশ নিতে পারবেন। ভোর সাড়ে ছয়টায় প্যারেড ময়দানের দ্বার খোলা হবে। প্রবেশ করতে হবে রোকেয়া সরণিসংলগ্ন দ্বার দিয়ে। প্রবেশের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লোকসংখ্যা গণনা সম্পন্ন হবে। কোনো ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড সঙ্গে আনা যাবে না। প্রবেশের সময় প্রত্যেককে একটি ব্যাগ দেওয়া হবে। এতে জাতীয় পতাকা, গানের বাণী ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা লেখা কার্ড, পানির বোতল, স্যালাইন ইত্যাদি থাকবে। সকল নয়টা পর্যন্ত ময়দানে প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
ময়দানে প্রতি ৫০ জন লোককে নিয়ে একটি ব্লক করা হবে। মোট ছয় হাজার ব্লকে থাকবে তিন লাখ লোক। তবে লোকসংখ্যা বেশি হলে সামনের রোকেয়া সরণিতে দাঁড়িয়েও কণ্ঠ মেলানোর ব্যবস্থা থাকবে।
লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা গাওয়ার আগে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আয়োজনটিতে দেশের খ্যাতিমান এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ৪৫ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
এই বিপুল আয়োজনে উপস্থিত থেকে লাখো মানুষের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে ইতিহাসের অংশ হতে আগ্রহী যে কেউ চলে যেতে পারবেন জাতীয় প্যারেড ময়দানে।
যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে: আজ ভোর ছয়টা থেকে অনুষ্ঠান চলা পর্যন্ত জাতীয় প্যারেড ময়দানের পাশের বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক বন্ধ থাকবে। এই সড়কগুলো হলো মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে জাতীয় সংসদের খেজুর বাগান এলাকা পর্যন্ত, বিজয় সরণি থেকে চন্দ্রিমা উদ্যান মোড়, শ্যামলী শিশুমেলা থেকে আগারগাঁও মোড়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উত্তর পাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠসংলগ্ন বিআইসিসি মোড় থেকে গণভবন পর্যন্ত।
আড়াই হাজার বাস: লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থী, পোশাকশিল্পের কর্মী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য আজ দুই হাজার ৫০০ বাস-মিনিবাস সরবরাহ করবে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি। এ কারণে মহানগরে যাত্রীদের যাতায়াতে সাময়িক অসুবিধা হবে বলে গতকাল মঙ্গলবার সমিতির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
থেমে যাবে ট্রেন: আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে এ উপলক্ষে আটটি বিশেষ ট্রেন চালু করছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত এবং জয়দেবপুর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রেনগুলো চলাচল করবে। ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না। বেলা ১১টায় সারা দেশে চলাচলরত সব ট্রেন যেটি যেখানে থাকবে, সেখানেই থেমে যাবে। যাত্রীরা সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাইবেন। এরপর বেলা ১১টা ৬ মিনিটে ট্রেনগুলো আবার চলা শুরু করবে।

শেয়ার করুন