‘সিল মেরে হেল্প করছি’

0
63
Print Friendly, PDF & Email

‘ভোটাররা বুঝে না কোথায় সিল মারতে হয়। তাই আমি সিল মেরে হেল্প করছি’। এমনটাই বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মহিলা এজেন্ট রোজিনা বেগম। গতকাল ভোট চলাকালে হালিমা বেগম নামের একজন ভোটারের ব্যালট পেপারে আপনি এজেন্ট হয়ে কেন প্রকাশ্যে সিল মারছেন জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই সরল স্বীকারোক্তি দেন তিনি। এদিকে হালিমা বেগম দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট পেপার পেয়েও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পেরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ভোটকক্ষ ত্যাগ করেন। তবে নয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ বাইরে থেকে ছিল বেশ সুশৃঙ্খল। কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পুরুষ ও মহিলা ভোটকক্ষে এজেন্ট, পোলিং অফিসার মিলে-মিশে আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী আমিরুল ইসলামের মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রকাশ্যেই সিল মারছে।

পাশেই আর একটি পুরুষ ভোটকেন্দ্রেও দেখা যায় একই চিত্র। দুটি বুথে মাজেদুল ইসলাম ও মতিউর- আমিরুলের এজেন্ট পরিচয়ে নিজের মতো করে সিল মারছে। এ কেন্দ্রে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে কোনো ভোটারকেই ব্যালট নিয়ে গোপন কক্ষে যেতে দেখা যায়নি। সবাইকে এজেন্টের সামনেই ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভোটার। সিল মারার বিষয়ে জানতে চাইলে মাজেদুল ইসলাম বলেন, এলাকার সুনাম রক্ষা করতেই সকাল থেকে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। যাতে কোনো প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা গণ্ডগোল না করে। সেই জন্য সবাইকে হেল্প করছি। অপর এজেন্ট মতিউরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কোনো সমস্যা নেই। আমরা আমরাই তো। এসব বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ফাহিম আহমেদের দাবি, এ কেন্দ্রে কোনো সমস্যা নেই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হচ্ছে। অভিযোগ সামনাসামনি দেখালেও তিনি তা অস্বীকার করেন। সাড়ে ৯টায় একই দৃশ্য দেখা যায় কাজীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। এখানেও এজেন্ট না হয়েও ভোটকেন্দ্রে সিল মারতে সাহায্য করছে শফিকুল ইসলাম। তবে তিনি কোন প্রার্থীর পক্ষে সিল মারছেন তা বলতে রাজি হয়নি কেউ। প্রতিটি বুথে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া গেলেও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের দেখা মেলেনি।

তবে শোনা গেছে, এই ভোটকেন্দ্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ, র্যাব কর্মকর্তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে জিম্মি করেছেন। বলেছেন, এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এটা যেন তিনি না বলেন। তবে এজেন্টরা নিজের ইচ্ছায় বের হয়েছে বলে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে স্বীকারোক্তি নেন তারা। কাজীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী বুথে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি। কেন্দ্রের ২ হাজার ৭১৭ ভোটের বিপরীতে সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট পড়েছে ৩২০টি। এ বিষয়ে এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। সুন্দরভাবে ভোট হচ্ছে। এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে আলী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট দিতে আসার আগেই ভোট প্রদান হয়ে গেছে এমনই অভিযোগ করেন শফিক নামের এক নতুন ভোটার। তিনি বলেন, অনেক আশা করে ভোট দিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি অন্য একজন ভোট দিয়েছে।

শেয়ার করুন