সুপার টেনে হারাবার কিছু নেই: মুশফিক

0
55
Print Friendly, PDF & Email

হংকংয়ের সঙ্গে শেষ ম্যাচে হারাটা মেনে নিতে পারছে না কেউই। এই হারকে বিরাট এক বিপর্যয় হিসেবেই দেখতে চান সবাই। সুপার টেনে ওঠার আনন্দ মাটি করে দেওয়া এই হার বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসেও বিরাট এক আঘাত হয়ে এসেছে। তবে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই দুঃস্বপ্নকে পেছনেই রাখতে চান। তবে তিনি এটা মানেন, এই হারের দুঃস্বপ্ন থেকে গোটা দলকে বের করে নিয়ে আসাটা খুব সহজ কোনো কাজ নয়। ক্যারিবীয়দের সঙ্গে মোকাবিলার আগে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটাই তাঁকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই ঘটা সম্ভব। আমরা কালকের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি। যদিও হংকংয়ের সঙ্গে হারটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। তবে দুঃস্বপ্নটা পেছনে রেখে আমি সামনের দিকে তাকাতে চাই।’
সুপার টেনে বাংলাদেশ দলের হারানোর কিছু নেই বলেই মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমাদের গ্রুপে চার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সঙ্গে আমরা চারটা ম্যাচ খেলব। আমাদের হারানোর কিছু নেই। বরং আমি বলব, আমাদের সঙ্গে ম্যাচেই ওই দলগুলো যথেষ্ট চাপে থাকবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ গতকাল নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের সঙ্গে হেরেছে। হারের ধরন কোনোভাবেই ঠিক বর্তমান চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে যায় না। ব্যাপারটা কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাসী করছে মুশফিককে। মুশফিক বেশি আত্মবিশ্বাসী হচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজটির সুখস্মৃতি স্মরণ করে, ‘ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোটেও ভালো খেলেনি। কালকের ম্যাচে তাদের জিততেই হবে। সেদিক দিয়ে তারা কিছুটা চাপে থাকবে। যদিও টি-টোয়েন্টি ওয়ানডের চেয়ে আলাদা, কিন্তু তার পরও ওদের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্মৃতি আমাকে আত্মবিশ্বাসী করছে।’
সোহাগ গাজীর দারুণ রেকর্ড আছে ক্রিস গেইলের বিপক্ষে। গত সিরিজে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গাজীর শিকারে পরিণত হয়েছেন গেইল। ব্যাপারটি বিবেচনায় নিয়ে কালকের ম্যাচে সোহাগের খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মুশফিকুর, ‘অবশ্যই গেইলের বিপক্ষে সোহাগের আগের পারফরম্যান্সটা বিবেচনায় আসবে। তবে সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়ে উইকেট দেখে। উইকেটের বিবেচনায় সোহাগ কাল খেলতেও পারে।’
আবদুর রাজ্জাক কিংবা সোহাগ গাজী কেউই খুব একটা ভালো ফর্মে নেই। অথচ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দিন থেকেই স্পিনাররাই দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছেন। ব্যাপারটি ভাবাচ্ছে মুশফিককেও, ‘এটা খুবই চিন্তার বিষয়, সাকিব ছাড়া আমাদের অন্য স্পিনাররা কেউই ভালো ফর্মে নেই। তবে আমি মনে করি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য একটি দারুণ স্পেল, কিংবা একটা ম্যাচই যথেষ্ট।’
হংকংয়ের বিপক্ষে হারটা দলের ভেতরেও যথেষ্ট প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছেন। যে দলের সঙ্গে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগেও কোনোদিন হারের রেকর্ড নেই, সেই দলের কাছে একটা বড় প্রতিযোগিতার মঞ্চে হেরে যাওয়াটা যে লজ্জার, তা উপলব্ধি করতে পারছেন প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ই। মুশফিকও জানালেন সেটা, ‘হারটা মেনে নেওয়া যায় না। ড্রেসিং রুমে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এটা জানে। ওই ম্যাচে যে ভুলগুলো হয়েছিল, সেটা অনুশীলনে ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রত্যেক খেলোয়াড়ই। আশা করছি কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগেরও বেশি দিয়ে সেই দুঃস্বপ্নকে ঢেকে দিতে পারব আমরা।

শেয়ার করুন