নিজামীর যুদ্ধাপরাধের রায় যেকোনো দিন

0
42
Print Friendly, PDF & Email

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় দেওয়া হবে যেকোনো দিন। সোমবার মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি)  রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।  

সোমবার আসামিপক্ষের জবাবে পাল্টা ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। এর আগে রোববার নিজামীর পক্ষে অভিযোগভিত্তিক ও আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে মামলার সর্বশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় যেকোনো দিন রায় দেওয়া হবে বলে জানান চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। তিন সদস্যের মধ্যে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন অনুপস্থিত ছিলেন।

গত ১০ থেকে ১২ মার্চ এবং রোববার ও সোমবার নিজামীর বিরুদ্ধে ৫ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলী। অন্যদিকে গত ১৩ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও মিজানুল ইসলাম।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিচারিক কার্যক্রমের শেষ ধাপ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখা হলো নিজামীর মামলায়। উভয়পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে গত বছরের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউররা। এরপর ৭ নভেম্বর থেকে চার দিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন রাখা হলেও নিজামীর আইনজীবীরা আসেননি। ফলে ১৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত বলে ঘোষণা দিয়ে রায় যেকোনো দিন দেওয়া হবে বলে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের লিখিত যুক্ততর্ক জমা দিতে বলা হয়।

এরপর ১৪ নভেম্বর আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ চাইলে ১৭ নভেম্বর থেকে ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় দেন ট্রাইব্যুনাল।   

২০ নভেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে নিজামীর মামলার রায় দ্বিতীয়বারের মতো অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন বিদায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু রায় দেওয়ার আগেই গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসরে চলে যান। এরপর থেকে প্রায় দুইমাস ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠন না হওয়ায় নিজামীর মামলাসহ পাঁচটি মামলার কার্যক্রম শুধুমাত্র তারিখ পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

৫৪ দিন চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। সেদিনই নতুন করে যুক্তিতর্ক শোনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ১০ মার্চ প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ৩৩৬ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থা। আর আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এতে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, খুন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৫টি অভিযোগ আনা হয়।
২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

ওই বছরের ২৮ মে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠনকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ১৫টির সঙ্গে ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা যোগ হয়েছে।

নিজামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট থেকে গত বছরের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ ২৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ৭ম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেবকে বৈরি ঘোষণা করে তাকে জেরা করেছেন প্রসিকিউশন।

ঘটনার অন্য ২২ সাক্ষী হচ্ছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিজবাউর রহমান চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধকালে বিচ্ছু বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গেরিলা যোদ্ধা জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্ছু জালাল, মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (নিরাপত্তারক্ষী) রোস্তম আলী মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা নাজিব উদ্দিন খাত্তাব, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, মো. আইনুল হক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফিজিশিয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রথীন্দ্রনাথ কুণ্ডু, শহীদ বুদ্ধিজীবী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য মো. আব্দুস সেলিম লতিফ ও তার ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জানে আলম জানু, মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক, আবু সামা ফকির, শহীদের পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ তহুরুল আলম মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী বিশ্বাস, শহীদ পরিবারের সদস্য শাহজাহান আলী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আজহারুল হকের স্ত্রী সৈয়দা সালমা হক।

জব্দ তালিকার ২ সাক্ষী হচ্ছেন বাংলা একাডেমির সহকারী গ্রন্থাগারিক এজাবউদ্দিন মিয়া এবং জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার স্বপন কুমার বিশ্বাস।

আসামিপক্ষ তাদের জেরা সম্পন্ন করেছেন।

অন্যদিকে নিজামীর পক্ষে গত বছরের ২১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হচ্ছেন, অ্যাডভোকেট কে এম হামিদুর রহমান, মো. শামসুল আলম, আবদুস সালাম মুকুল এবং নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মো. নাজিবুর রহমান ওরফে নাজিব মোমেন। তাদেরকে জেরা করেছেন প্রসিকিউশন।

গত বছরের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ও ২০ নভেম্বর ৫ কার্যদিবসে প্রথমবারের মতো নিজামীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আলী, হায়দার আলী ও মীর ইকবাল। অন্যদিকে গত বছরের ৭ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে নিজামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন
তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

নিজামীর বিরুদ্ধে যতো অভিযোগ
নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ধারায় মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৪(১) ও ৪(২) ধারায় আনা হেয় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (উর্ধতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাওলানা কছিমুদ্দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালাতেন। একাত্তরের ৪ জুন পাকিস্তানি সেনারা তাকে অপহরণ করে নূরপুর পাওয়ার হাউসের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিজামীর উপস্থিতিতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ১০ জুন তাকে ইছামতী নদীর পাড়ে অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১০ মে বেলা ১১টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়ি গ্রামের রূপসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকারদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নিজামী বলেন, শিগগিরই পাকিস্তানি সেনারা শান্তি রক্ষার জন্য আসবে। ওই সভার পরিকল্পনা অনুসারে পরে বাউশগাড়িসহ দু’টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে। প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ করে রাজাকাররা।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাসের শুরু থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প ছিল। রাজাকার ও আলবদর বাহিনীও সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে। নিজামী ওই ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র করতেন।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে নিজামীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি সেনারা ঈশ্বরদী উপজেলার আড়পাড়া ও ভূতের বাড়ি গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ২১ জন নিরস্ত্র মানুষ মারা যায়।

অষ্টম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৩০ আগস্ট নিজামী নাখালপাড়ার পুরোনো এমপি হোস্টেলে গিয়ে সেখানে আটক রুমী, বদি, জালালদের হত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের প্ররোচনা দেন।

দশম অভিযোগে বলা হয়েছে, পাবনার সোনাতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র কুণ্ডু প্রাণ বাঁচাতে ভারতে চলে যান। নিজামীর নির্দেশে রাজাকাররা তার বাড়ি আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।

১১ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউটে ইসলামী ছাত্রসংঘ আয়োজিত সভায় নিজামী বলেন, পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তিনি প্রিয় ভূমির হেফাজত করছেন। দুনিয়ার কোনো শক্তি পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারবে না।

১২ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ২২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক একাডেমি হলে আল মাদানীর স্মরণসভায় নিজামী বলেন, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে শত্রুরা অস্ত্র হাতে নিয়েছে। তিনি পাকিস্তানের শত্রুদের সমূলে নির্মূল করার আহ্বান জানান।

১৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে ছাত্রসংঘের সভায় নিজামী বলেন, হিন্দুস্তানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে রাজাকার, আলবদররা প্রস্তুত।

১৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর যশোরে রাজাকারদের প্রধান কার্যালয়ে এক সুধী সমাবেশে নিজামী প্রত্যেক রাজাকারকে ইমানদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে কেউ কখনো হত্যা করে, কেউ মারা যায়। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রসংঘের সদস্য, রাজাকার ও অন্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের উসকানি ও প্ররোচনা দেন।

১৫ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাস থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্প ছিল। নিজামী প্রায়ই ওই ক্যাম্পে গিয়ে রাজাকার সামাদ মিয়ার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করতেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।

১৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের প্রাক্কালে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে আলবদর বাহিনী। দেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আলবদর সদস্যরা ওই গণহত্যা ঘটায়। জামায়াতের তত্কালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান হিসেবে ওই গণহত্যার দায় নিজামীর ওপর পড়ে।

শেয়ার করুন