সিইসি’র এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, ব্যালট বাক্সে আগুন

0
112
Print Friendly, PDF & Email

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের নিজ উপজেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে গতকাল উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা দখলে নিয়ে বোমা হামলা ও ব্যালট বাক্সে আগুন লাগিয়ে দিলে ভোট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা ৫৩টি কেন্দ্রের সব ক’টিই দখলের অভিযোগ করেছেন। ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে আবারও ভোট গ্রহণের দাবিতে জীবননগর উপজেলায় আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোট। সরকারদলীয় প্রার্থী আবু মো. আবদুল লতিফের আনারস প্রতীকের পক্ষে সরকারদলীয় ক্যাডাররা এসব অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমান ধন্দু ও জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমানসহ সাত প্রার্থী দুপুর সাড়ে ১২টায় একযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন। নতুনপাড়া কেন্দ্র থেকে সেনাবাহিনী আব্দুল গনি নামে এক ব্যক্তিকে ব্যালট পেপারসহ আটক করেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় একদল দুর্বৃত্ত কন্দর্পপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল, পরপর তিনটি বোমা হামলা ও নয়টি কক্ষে ঢুকে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভাঙচুর ও তাতে অগ্নিসংযোগ করে। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বপন কুমার জানান, হামলাকারীদের চেনা যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহকারী পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোট কেন্দ্রে একযোগে হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হাসান বুলবুল জানান, হামলায় বহিরাগতরা অংশ নেন। নির্বাচন বর্জনকারীরা হলেন বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজা পারভীন, জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী খলিলুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সামুন্নাহার এবং স্বতন্ত্র ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পেয়ারা বেগম। ভোট চলাকালে রোববার দুপুর ১টায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জীবননগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদুর রহমান ধন্দুর বাসভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯ দলের পক্ষে হরতালের ঘোষণা দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমীন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার ৫৩টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট গ্রহণ স্থগিত ও পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানানো হয়। জীবননগরে সরকারি দল কর্তৃক ব্যালট পেপার ছিনতাই ও কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদানের ঘটনায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় ও জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন-শহিদুল ইসলাম (৩৫), মমিন খান (৩৫), তবি (৩৬), আফসার আলী (৪০), মতিয়ার রহমান (৪০), আবদুল কুদ্দুস (৪১), হবি (৩৫), আবদুল মান্নান (৪০), আবদুর রশিদ (২৫), মশিউর রহমান (৫০), জাহিদুল ইসলাম (৫০), রানা (৪০), আবদুল আলিম (৩৫), মোজাহিদ হোসেন (৪০), শ্যামল (৪৫), স্বপন (৩৪) ও ইউনুছ (৫৫)। দৌলতগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে সরকারদলীয় সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র দখলের কারণে সকাল ৯টার মধ্যে ১২টি বুথে ৩৫২৪ ভোটের মধ্যে ১৮০০ ভোট পোল করা হয়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তৌহিদুর রহমান এর ফলে ওই ভোট গ্রহণ এক ঘণ্টা বন্ধ রাখেন। সকাল ১০টায় শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১২ জন আওয়ামী লীগ ক্যাডার কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাল ভোট দেয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষ বাঁধলে উভয় দলের ১৩ জন আহত হন। এ সময় ৬টি ব্যালট পেপার ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ১ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখেন। এদিকে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আবদুর রহমানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন আওয়ামী ক্যাডার জামায়াত সমর্থিত এজেন্ট ও ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তন ৭ জন আহত হন। এ সময় আধা ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জীবননগর ইউএনও সাজেদুর রহমান জানান, একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং সাতজন প্রার্থী নির্বাচন স্থগিত ও ভোট পুনরায় গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আবেদনপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন