এসপি মোস্তফা কামাল কারাগারে

0
67
Print Friendly, PDF & Email

এসএ পরিবহণের দায়ের করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসপি মোস্তফা কামালকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুরে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসএ পরিবহন ও এসএ টিভির স্বত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করে অবৈধভাবে ৫০ লাখ টাকা আাদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রেলওয়ে পুলিশের এসপি মোস্তফা কামালকে গত ১৯ ডিসেম্বর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

৩নং স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন তাকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এ দণ্ড দেন।  

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অতিরিক্ত তাকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানার টাকা বর্তমান বা ভবিষ্যত অর্জিত সম্পদ হতে আদায় করে ৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার এবং ২৫ লাখ টাকা ফরিয়াদীকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয় রায়ে।

এছাড়াও ওই এসপিকে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৭ পঠিতব্য প্রিভেনশন অব করাপশন অ্যাক্ট এর ৫(২) ধারার অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। এ মামলায় অপর অভিযুক্ত এসআই ওয়াহেদ মিয়াকে খালাস দেয়া হয়েছে।

এর পর তিনি জামিন লাভ করেলে গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার জামিন আদেশ বাতিল করে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী তিনি সোমবার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদাতে আত্মসমর্পণ করেন।

২০০৩ সালের ২০ নভেম্বর এস এ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন আহমদ নীলফামারী পার্বত্যপুর রেলওয়ের পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও এসআই ওয়াহেদ মিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

বাদী মামলায় অভিযোগ করেন, ২০০২ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি নিজ গাড়িতে ২০ লাখ টাকা নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তল্লাশির নাম করে পুলিশ গাড়িটি আটক করে। বাদী তার পরিচয় দিলে রাতে টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে থানার জিডি করতে বলেন।

থানায় জিডি করতে গেলে হবিগঞ্জের তৎকালীন এসপি মোস্তফা কামাল এসএ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ অন্যদের হাজতে ঢুকাতে ওয়্যারলেসে থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এরপর তাকে আটক করে তার নামে মানি লন্ডারিং, মাদক ও নারী ও শিশু নির্যানতন আইনে পৃথক ৩টি মামলা করা হয়।

বাদী আরো উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে আসামিরা বাদীর হেড অফিসে খবর পাঠায় আটককৃত ২০ লাখ টাকাসহ ৫০ লাখ টাকা দিলে সকলকে ম্যানেজ করে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

২০১০ সালের ৪ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

ঘটনার সময়ে তিনি হবিগঞ্জে এএসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শেয়ার করুন