সৌরভ গাঙ্গুলী টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী

0
242
Print Friendly, PDF & Email

সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে আফগানিস্তানের সে কী উচ্ছ্বাস! শাপুর, নবী, শেনোয়ারিরা তাদের দেশে নায়ক হয়ে গিয়েছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে হারিয়ে বদলা নিতে পেরে তাই মুশফিক আর তার দল স্বস্তিতে। ছোট দলগুলোর এই লড়াই যে পরাশক্তিদের লড়াইয়ের মতোই রোমাঞ্চকর হতে পারে সেটির প্রমাণ এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারানো আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স। এটা ওসব দেশে ক্রিকেটের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখে।
গত এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। দেশটিতে প্রতিভার কমতি নেই। তবে আমি মনে করি তাদের যথাযথ পরিচর্যার দরকার এবং একটা সঠিক প্রক্রিয়া থাকা দরকার যাতে খেলাটা সেখানে আরও ভালোভাবে বিকশিত হয়। এশিয়া কাপে খেলা দলটির চেয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দল অনেক শক্তিশালী। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যেকোনো পরাশক্তির জন্যই হুমকি হয়ে উঠবে। প্রথম পর্বে খেলতে হওয়াটা বাংলাদেশের শক্তিমত্তার সঠিক জায়গা নয়।
লম্বা পদক্ষেপে এগিয়ে আসছে এমন আরেকটা দল আয়ারল্যান্ড। ২০০৭ বিশ্বকাপে তারা পাকিস্তানকে হারিয়েছে, ২০১১ বিশ্বকাপে স্তব্ধ করে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান দলগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের নাম জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টেও তাদের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতো। তারা টেস্ট খেলুড়ে দল জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েই সুপার টেনে উঠবে।
বড় টুর্নামেন্টগুলোয় তুলনামূলক খর্বশক্তির এই দলগুলোকে খেলার সুযোগ দিয়ে আইসিসি তাদের একটা মঞ্চ তৈরি করে দেয় নিজেদের প্রমাণ করার। বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেলে তারাও বুঝতে পারে নিজেদের আসল সামর্থ্য। আয়ারল্যান্ড, হল্যান্ডের অনেক ক্রিকেটার এবং অন্যান্য সহযোগী সদস্য দেশের কয়েকজন ক্রিকেটারের অবশ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে আগেই। এদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছে। এটা শুধু তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতাই বাড়ায় না, দেশে আরও অনেকের ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহ বাড়ায়। এর মধ্যে আয়ারল্যান্ড খুব দ্রুত উন্নতি করছে। তবে আইসিসির উচিত এসব দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগী হওয়া। ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে হলে এটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেটা হিমালয়ের দেশ নেপালই হোক কিংবা সম্ভাবনাময় অন্য যেকোনো দেশে।

শেয়ার করুন