বিআরটিএ: কর্মচারী নিয়োগে বড় জালিয়াতি

0
71
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে বড় ধরনের জালিয়াতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তপন কুমার সরকারের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করেই এক রাতের ব্যবধানে এ সিন্ডিকেট তৃতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগ দেন। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর পদেও এ সিন্ডিকেট ‘কারসাজি’ করেন।

২০১২ সালে মুদ্রাক্ষরিক কাম টাইপিস্ট এবং পিয়ন নিয়োগে এ দুর্নীতি হয়। ঘটনার সময় তপন কুমার সরকার বিআরটিএ’র প্রশাসন বিভাগের পরিচালক এবং নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তপন কুমার সরকারের সঙ্গে এ জালিয়াতিতে সহযোগী ছিলেন বিআরটিএ’র সাবেক উপ পরিচালক জসিম উদ্দিন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব।

এ অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি তপন ও জসিমসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বিআরটিএ’র জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপ পরিচালক এবং প্রধান অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা খায়রুল হুদা।

অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে জানান, অনুসন্ধান প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে আমরা নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখা সম্পন্ন করেছি। আর দু’একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। যারা অভিযুক্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যারা খাতা মূল্যায়ন করেছেন তারা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা, যাদের বেশিরভাগই বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রায় ৪ হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে মুদ্রাক্ষরিক কাম টাইপিস্ট এবং পিয়ন নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হলেও উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই রাতারাতি ফলাফল টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ৪ হাজার উত্তরপত্র দেখাকে ‘অস্বাভাবিক’ভাবে দেখেছে দুদক। মুদ্রাক্ষরিক পদে ৪৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পিয়ন পদে অর্ধশতাধিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর টাইপিস্ট কাম মুদ্রাক্ষরিক পদে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। এর পরদিন বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার কথা থাকলেও রাতারাতি পছন্দের প্রার্থীদের তালিকার ফলাফল তৈরি করে সকালেই ফলাফল টানিয়ে দেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ’র সাবেক পরিচালক ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে আমি কাজ করেছি।

তিনি আরও বলেন, তৎকালীন বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খানের উপস্থিতিতে খাতাগুলোর (উত্তরপত্র) মূল্যায়ন হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

আইয়ুবুর রহমান খান বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেব দায়িত্বরত।

শিগগিরই দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছে। এ দুর্নীতির সঙ্গে বিআরটিএ’র সাবেক এ চেয়ারম্যানের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না তা এখন খতিয়ে দেখছে দুদকের অনুসন্ধানী টিম।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, যেখানে প্রায় ৪ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন, সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তাদের উত্তরপত্র কীভাবে দেখা হলো?

অভিযোগকারীরা বলেন, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কিছু প্রতিযোগীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে মনগড়া টেব্যুলেশন শিট তৈরি করা হযেছে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের নাম না আসায় কয়েকজন বিআরটিএ’র কার্যালয়ে অভিযোগও করেছেন যে, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন পরীক্ষায় অংশই নেননি।

শেয়ার করুন