সহিংসতার দায় নির্বাচন কমিশনের

0
234
Print Friendly, PDF & Email

উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার জন্য প্রধানত নির্বাচন কমিশনই দায়ী। তবে সরকারও দায় এড়াতে পারেনা৷ ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সহিংসতা এবং অনিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা৷ তারা মনে করেন, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল৷

তাদের মতে, প্রধানত নির্বাচন কমিশন এর জন্য দায়ী হলেও সরকারও দায় এড়াতে পারেনা৷ বিশ্লেষকরা উপজেলা পরিষদের সামনের নির্বাচনে আরও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন৷ এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচন চর দখলের মতো হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন৷

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় পর্যায়ে শনিবার দুইজন নিহত হওয়া ছাড়াও ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ব্যালট পেপারে সিল ও ভোটকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে৷ নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে ২১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করেছে৷ আর নির্বাচনে সহিংসতা এবং কারচুপির অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ কোথাও কোথাও রোববার হরতাল ডাকা হয়েছে৷

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘তৃতীয় দফায় এসে উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতা আরও বেড়ে গেল৷ নির্বাচন কমিশনের শিথিলতার কারণে এখন ভোট বাদ দিয়ে কেউ কেউ পেশী শক্তির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাইছেন৷ এটা নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত৷’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের মতো উপজেলা নির্বাচন একতরফা নয়৷ সব দলই অংশ নিচ্ছে৷ ফলে ভোটকেন্দ্র দখল, পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটছে৷ সামনে আরও যে নির্বাচন আছে তাতে এ প্রবণতা বাড়বে৷’

তিনি বলেন, ‘এই সহিংসতার দায় নির্বাচন কমিশনের৷ তাদের বার বার সতর্ক করার পরও তারা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি৷ সরকারও এর দায় এড়াতে পারেনা৷’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘শনিবারের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছে৷ দেখে মনে হয়েছে তাদের যেন কোনো দায়িত্ব নেই৷ এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচন ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়বে৷’

হাফিজ উদ্দিন খান আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সরকারের ইচ্ছা শনিবারের নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে৷ ফলে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ হবেনা তা নিশ্চিত৷’ তার মতে, ‘উপজেলা পরিষদের সামনের নির্বাচনে সহিংসতা আর কেন্দ্র দখলের ঘটনা আরও বাড়বে৷’

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন৷ প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিব উদ্দিন আহমেদ ছুটিতে আছেন৷

শনিবারের তৃতীয় দফায় ৮১টি উপজেলা পরিষদের নিবাচনের পর ২৩ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের ৪র্থ পর্যায়ে ৯২টি উপজেলায় এবং ৩১ মার্চ ৫ম পর্যায়ে ৭৪টি উপজেলায় নির্বাচন হবে৷ এপ্রিলে ৬ষ্ঠ ধাপে ২২টি উপজেলার নির্বাচন হওয়ার কথা৷ তবে ৬ষ্ঠ ধাপের তফশিল এখনো ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন৷

শেয়ার করুন