যোগাযোগ মন্ত্রীকে হত্যার হুমকি, থানায় হামলা

0
219
Print Friendly, PDF & Email

নোয়াখালীর কবিরহাট থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার ২৭ ঘন্টায়ও মামলা হয়নি। আটক করা হয়নি জড়িত কাউকেই।

জানা যায়, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে চাকরির জন্য তদবির করেন কবিরহাট পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোছলে উদ্দিন নবীর দুই ভাই। চাকরি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা মন্ত্রীকে মোবাইলে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে এসএমএস পাঠায়। পরে মন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার সন্ধ্যার পর পুলিশ নবীর দুই ভাইকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এর পর কবিরহাট পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান রাত পৌনে ১২ টার দিকে লুঙ্গি পরে মাতাল অবস্থায় থানায় গিয়ে আটক দুই জনকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন এবং তাদের কেন ধরে আনা হয়েছে পুলিশের কাছে তা জানতে চান।

পুলিশ তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বললেও তিনি না শুনে মাতলামি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে গ্র্রেফতার করার জন্য পুলিশকে বলেন এবং তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে মোবাইলে নেতাকর্মীদের খবর দেন।

পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীরা থানায় ভিড় জমায় এবং হামলা ও ভাংচুর শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ৪০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের ক্যাডাররা রাত প্রায় ২ টা পর্যন্ত থানার অভ্যন্তরে তান্ডব চালায়। তারা থানায় চেয়ার-টেবিল, গ্লাস ভাংচুর করে এবং লুটপাট করে।

পরে অবস্থা বেগতিক দেখে নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।

কবিরহাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি বিষয়টি সাথে সাথেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে এখনো মামলা হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটকও করা হয়নি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। পুলিশ ধৈর্য্যরে সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। এ বিষয়ে কবিরহাট ওসিকে একটি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সারাদিন একাধিক বার সংবাদ কর্মীরা নোয়াখালী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এদিকে ঘটনার ২৭ ঘন্টা পরও থানায় মামলা না হওয়া, কোন হামলাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় এবং শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

অন্যদিকে থানায় হামলার ঘটনা জানেন না নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। শীর্ষ নিউজের পরিচয় দিয়ে মোবাইলে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, এসপির কাছ থেকে জেনে নিন। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

শেয়ার করুন