অপরাধ দমনে অসীম সাহসিকতা, বীরত্ব, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেয়ার ক্ষেত্রে এবারও দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। সততা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের চেয়ে দমন-পিড়নে দক্ষ পুলিশ সদস্যরা এবার পাচ্ছে পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মান বিপিএম ও পিপিএম পদক। বিশেষ করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে দমন-পিড়নে পারদর্শী পুলিশ কর্মকর্তাদের বার বার দেয়া হচ্ছে পদক। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, এবার পুলিশ সপ্তাহে র্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে মোট ১০৫ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেয়া হচ্ছে। উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে- ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত কমিশনার মো: আব্দুল জলিল মণ্ডল, শেখ মারুফ হোসেন সর্দার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্ণেল জিয়াউল আহসান, পরিচালক রিয়াজুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার( সদর দপ্তর) আনোয়ার হোসেন, মতিঝিল ডিভিশনের উপ- পুলিশ কমিশনার আশরাফুজ্জামান, লালবাগ ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ, রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার সিবলী নোমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান, ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদী হাসান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) জুয়েল রানাসহ আরো অনেকেই।
মরোণত্তর পদক পাচ্ছেন রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৬ পুলিশ সদস্য। যাদের মধ্যে এ এস আই, এসআই ও কনেস্টেবল রয়েছে। এছাড়া আহত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে খুন হওয়া পুলিশ সদস্যদেরও মরোনত্তর পদক দেয়া হবে। এর মধ্যে পিপিএম সাহসিকতা ও সেবা পাচ্ছেন ৬৯ জন এবং বিপিএম সাহসিকতা ও সেবা পাচ্ছেন ৩৬ জন।
সূত্র জানায়, বিরোধী দলীয় চীফ হুইফ জয়নুল আবদিনকে মারপিট করে পদোন্নতি পাওয়া লালবাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদকে এবারও পদক দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে যিনি জয়নুল আবদিনের মতো হল উদ্ধারের জন্য আন্দোলনকারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- শিক্ষকদের পিটিয়ে গুলি করার আদেশ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই বিএনপির হরতাল চলাকালে সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইফ জয়নুল আবদিনকে সংসদ ভবন চত্তরে মারপিট করে তেজগাঁও জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হারুন আর রশিদ পদন্নতি পেয়ে লালবাগ ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পাওয়ার পরই ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশে কুপিয়ে হত্যা করে বিশ্বজিত নামের এক দর্জি দোকানীকে। ওই সময় ডিসি হারুন অর রশিদ ৩০ গজের মধ্যে থাকলেও বিশ্বজিতকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বছরই তাকে দেয়া হয়েছে পুলিশ পদক।









