সোমবার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উপজেলা নির্বাচনের গত দুটি পর্বে ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের ‘বিজয়ের অগ্রযাত্রা দেখে’ সরকার এই ‘নতুন কৌশল’ নিয়েছে।
“আমরা জানতে পেরেছি, পরবর্তী পর্বের উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে প্রিসাইডিং অফিসার বদল করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই- পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে নিতে দলীয় মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তাদের প্রিসাইডিং অফিসার পদে বসানো।”
অবশ্য নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে সোমবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ঢালাওভাবে কোনো অভিযোগ দেয়া ঠিক নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবেন।
গত ১৯ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনের প্রথম দুই পর্বে ২১০ উপজেলার মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ১১৬টি উপজেলায়। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৭৯ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামী ১৫ মার্চ ৮৩ উপজেলা, ২৩ মার্চ ৯৩ উপজেলা এবং পঞ্চম ধাপে ৩১ মার্চ ৭৪ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, “গত দুই পর্বের উপজেলা নির্বাচনে সরকার তার প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ ভোট কারচুপির মহোৎসব করেছে। এসব ঘটনার তথ্যচিত্র গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে।
“এতো কলাকৌশলের পরও তারা বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীদের অগ্রযাত্রা রুখতে পারেনি। সেজন্য সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নাকি আরো কঠোর হবেন।”
এর ‘আলামত’ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “গতকাল আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম আন্দোলন করলে হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।”
শেখ সেলিমের এ ধরনের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব।
রোববার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, “এবার আন্দোলনের নামে যারা নাশকতা করবে, তাদের হাত-পা কেটে দেয়া হবে। পাঁচ বছর পরে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অথীনেই নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আসতে হবে।
রিজভী বলেন, “সরকার এসব কথা বলে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, জনগণকে ভয়ভীতি দেখাতে সরকার এরকম যতো হুমকি-ধমকি দিক, কেনো কাজ হবে না।”
সংবাদ ব্রিফিঙে অন্যান্যের মধ্যে যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, দলের প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদুজ্জামান, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল এইচ খান, সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।







