অস্বস্তিকর শান্তি বিরাজ করছে বাংলাদেশে

0
230
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট, নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতামত পাতায় একটি মন্তব্য-প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বাংলাদেশের লেখিকা, ঔপন্যাসিক ও কলামিস্ট তাহমিমা আনাম। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর হরতাল, অবরোধে দেশের অচলাবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়েছে, কোন প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই বাংলাদেশে পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। কতদিন পর্যন্ত টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এমন একটি সরকারের, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। পরিস্থিতির যতই অবনতি হোক না কেন, সে ক্ষমতা পুরো মেয়াদে টিকে থাকার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বলে অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান। সন্দেহভাজন দুর্নীতিগ্রস্ত বহু মন্ত্রীকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত নতুন ও নিষ্কলুষ ব্যক্তিদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাল বোধের পরিচয় দিয়েছেন। জনপ্রিয়তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে যেমন দুর্নাম কুড়িয়েছে, বিএনপি তার অনমনীয় অবস্থান ও সহিংস কৌশলের কারণে আরও বেশি দুর্নাম কুড়িয়েছে। সড়কে সংঘটিত অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনায় ডানপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী জড়িত বলে মনে করা হলেও, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নির্বাচনের দিন ও এর পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে শুধু ভোট দিতে যাওয়ার জন্য সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে টার্গেটে পরিণত করেছিল জামায়াতের কর্মীরা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় জেলাসমূহে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়েছে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭০০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। রাজপথে ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের পরিবর্তে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগী হতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও একটি ধ্বংসাত্মক বছর অতিক্রম করতে পারবে না। দ্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৬৩০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবহন, কৃষি, পোশাক ও টেক্সটাইল খাত। পূর্বের নির্বাচনগুলো বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী সানন্দে বরণ করে নিয়েছিল। ভোটাররা ভোট দেয়ার পর তাদের কালিমাখা বুড়ো আঙুলটি দেখাতো গর্বভরে। এবার আর তা হয়নি। এ পতনের পরও আবার স্বাভাবিকতার আভাস ফিরে এসেছে। এ অসম নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণ বড় ধরনের কোন আওয়াজ তোলেনি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে শুরু করেছে। রাজধানীর রাস্তাঘাট আবারও যানজটের শিকার হয়েছে। সুপারমার্কেটের দোকানের তাকে মাখন পাওয়া যাচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। কিন্তু, এখনকার মতো একটি অস্বস্তিকর শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন