হংকংয়ে গৃহকর্মীদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতন বাড়ায় সেখানে কাজের আগ্রহ হারাচ্ছে বাংলাদেশীরা। দেশটিতে কর্মরত অনেক গৃহকর্মী ফেরতও এসেছেন। দেশটির প্রধান ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে ডেইলি স্টার।
২০১৩ সালের মে মাসে দেশটিতে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ পান ২৭০ জন। সেখান থেকে ফেরত আসা প্রতি পাঁচজনের একজন জানান, যাদের অধীনে তারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের নির্যাতনের কারণে ফেরত আসতে আসতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
গত সপ্তাহে এক বাংলাদেশী গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতন এবং চুল উপড়ে ফেলায় এক চাকরিদাতাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়ান গৃহকর্মী ইরিউয়ানা সুলিসতায়ানিংশিকে নির্যাতনের অভিযোগে তার চাকরিদাতাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রচণ্ড নির্যাতনে অসুস্থ ইরিউয়ানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং হংকংয়ের গৃহকর্মীর চাহিদা মেটাতে গত বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ-হংকং গৃহকর্মী বিষয়ক চুক্তি হওয়। দেশটির গৃহকর্মীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার।
হংকংয়ের কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ সারওয়ার মাহমুদ জানান, চুক্তির পর প্রথম বছরেই ধারণা করা হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। সেখানে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২০ শতাংশ কর্মী এরইমধ্যে ফেরত এসেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফেরত এসেছেন। আবার কারও চুক্তি শেষ হওয়ায় ফেরত এসেছেন। সেখানে নির্যাতনের বিষয়ে তারা সবাই সতর্ক আছেন।”
নির্যাতিতদের সহায়তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি। তাদের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টিও মনিটর করছি।”









