শোষণ করতে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটই না শোষিত হয়ে পড়ে

0
232
Print Friendly, PDF & Email

হ্যামিল্টনে আজ মঙ্গলবার ধোনির ভারত কি সিরিজে ফিরে আসতে পারবে? দু’দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের বাদ দিলে বিশ্ব ক্রিকেট জগতে কারও কোনও উৎসাহ নেই। ব্যাট-বল-গ্লাভস ছাড়াই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ক্রিকেট-যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে গতকাল দুবাইয়ে। যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার কথা ছিল আজ আইসিসি এগজিকিউটিভ বোর্ডের বৈঠকে। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা আগেই মূলত ভারতীয় বোর্ড কর্মকর্তারা তীব্র ‘পাওয়ার-বোলিং’ শুরু করেন আইসিসি-র কোনও কোনও পূর্ণসদস্য দেশের ওপর। সবচেয়ে চাপের মুখে ফেলা হয় বাংলাদেশকে। আইসিসি’র ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী বৈঠক আজ দুবাইয়ে শুরু হচ্ছে। শ্রীনিবাসনের ভারত যা চাইছে তা যদি সত্যি করে ফেলতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের রূপরেখা বদলে যাবে। একই সঙ্গে ক্রিকেটমহলের গরিষ্ঠ অংশের মতে, ‘খুন হয়ে যাবে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া।’ ভারত যা চাইছে তার জন্য সাত পূর্ণসদস্য দেশের সম্মতি দরকার। এমনিতে আইসিসি’র সংবিধান বদলের জন্য আট দেশের সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু এক্ষেত্রে ম্যাজিক ফিগার হল সাত। গতকাল রাত পর্যন্ত ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ছয়-তে আটকে রয়েছে। চাই আরও এক। সে জন্যই বাংলাদেশ বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানের ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করা হল যে তারা যেন তিন দেশের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। গোটা পরিকল্পনা যার মস্তিষ্কপ্রসূত, সেই নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসন মা মারা যাওয়ায় দুবাই আসতে পারেননি। তার হয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন আইপিএল’র সুন্দর রামন এবং সচিব সঞ্জয় পটেল। বাংলাদেশ রাজি হচ্ছে না দেখে এ বার চাপ দেওয়ার জন্য স্কাইপে শ্রীনিবাসনকে ডেকে আনা হয়। শ্রীনিবাসন একটা সময় উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা রাজি না হলে আমরা এ বছর বাংলাদেশে টি টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ খেলব না। এশিয়া কাপ থেকেও নাম তুলে নেব। দেখি আপনারা কী করেন। এ রকমই চাপের মধ্যে পড়ে এ দিন জিম্বাবুয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীনিবাসনদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। জিম্বাবুয়ে কর্তা পিটার চিঙ্গোকা বিশ্ব ক্রিকেটে তার শুভানুধ্যায়ীদের অকপটে বলেন, জানি, নোংরা ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হতে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের বোর্ডের টাকা দরকার। ভারত অনেক টাকা দেবে বলেছে।শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানকে অবশ্য ভারত বহু চেষ্টাতেও টিমে টানতে পারেনি। পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রমিজ রাজা এ দিন সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে ভারতের প্রস্তাবে আমাদের রাজি হয়ে যাওয়া উচিত। ক্রিকেটমহল যা শুনে রমিজের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। এশীয় ক্রিকেট সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্তা বললেন, রমিজ চিরকাল সাহেবদের পা চেটে এসেছে। এই বিবৃতি ও দেবে তাতে আর আশ্চর্য কী?” প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্লাইভ লয়েড অবশ্য ভারতের আনা প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, এটা অবিলম্বে প্রত্যাহার হওয়া উচিত। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বিশ্ব ক্রিকেটে ক্ষমতার দু’টো স্তর হয়ে যাবে। একটা দিকে থাকবে বাকি সাতটা দেশ। তাদের মধ্যে অবনমন থাকবে। বাকি তিন দেশ হবে তিন প্রধান। কলকাতা ফুটবলে এক সময় যে রকম ছিল মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মোহামেডান স্পোর্টিং। কিন্তু কলকাতা মাঠে বড় তিন প্রধানের কখনওই এই ক্ষমতা ছিল না, নতুন প্রস্তাবে ভারত-ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার জন্য যা থাকছে। এরা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পাবে। সব সিদ্ধান্ত নিজেরা নেবে। সব বড় টুর্নামেন্ট নিজের দেশে করবে। এমনকি এরা পয়েন্ট তালিকায় সবার শেষ হলেও এদের জন্য অবনমনের ব্যবস্থা থাকবে না। রাষ্ট্রপুঞ্জে যেমন আলাদা নিরাপত্তা-পরিষদ রয়েছে এটা তেমন বিশেষ সুবিধাভোগ করা তিন সদস্য। সোমবার রাতের কলকাতায় ক্রিকেট- ইতিহাসবিদ এবং বিশিষ্ট ক্রিকেটলিখিয়ে রামচন্দ্র গুহ উত্তেজিত ভাবে বললেন, এ রকম জঘন্য আইন কেউ কখনও শুনেছে যে লাস্ট হলেও তোমার জন্য অবনমন নেই? জগমোহন ডালমিয়া আইসিসি-তে থাকার সময় কৃষ্ণাঙ্গ দেশগুলোকে এক করে যে সফল মডেল তৈরি করেছিলেন, এর ফলে তা ভেঙে খানখান। এ দিন এশীয় ক্রিকেট কর্তা বলছিলেন, এশিয়াতেই তো সব ক’টা দেশ ভারতের বিপক্ষে চলে গেল। কাদের সঙ্গে ওরা খেলবে?

শেয়ার করুন