পাল্টে যাচ্ছে বিএনপি। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে দলের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে শিগগিরই আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং কৌশলীদের পদাবনতির লক্ষ্যে এপ্রিলের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে দল পুনর্গঠন করে আন্দোলন জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
মধ্যবর্তী নির্বাচন অথবা আন্দোলনের বিষয়টি মাথায় রেখে ঘর গুছিয়ে মাঠে নামতে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া। আন্দোলনের ফসল না তুলেই মাঠ ছেড়ে আবার যেন ঘরে ফিরতে না হয়, সেজন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ ছাড়া কারও কথায় ভর করতে চাচ্ছেন না তিনি হন তিনি ডাকসাইটে কোনো নেতা অথবা পরামর্শক। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হচ্ছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনের আলোকে। এক্ষেত্রে নেতাদের যোগ্যতার পরিমাপক হচ্ছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বাপর দক্ষতা ও রাজপথের আন্দোলনে ভূমিকা। সরকারবিরোধী আগামীর আন্দোলনে রাজপথে থাকতে পারবেন শুধু এমন নেতাদের নিয়েই চলতে চান তিনি। আর কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আন্দোলনের মাঠ এড়িয়ে থাকা দলের নেতাদের বিষয়ে। ‘কৌশলী’ এমন অনেক নেতার ঠাঁই হতে পারে দলের সাইডলাইনে। এতে কেন্দ্র থেকে যেমন ছিটকে পড়বেন অনেকে, তেমনি মাঠ থেকেও কেন্দ্রে উঠে আসতে পারেন ত্যাগী নেতারা। এ ভাবনা নিয়ে মে মাসের আগেই দলের কাউন্সিল সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সদ্য সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। চলতি বছরের মাঝামাঝিই নিশ্চিত হতে চান দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের সর্বশেষ মনোভাব। এর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চান তিনি। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলের আশ্বাসের বাস্তবায়ন হলে নির্বাচন, আর না হলে আন্দোলন।
সরকার এক বছরের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী এ সরকারের প্রতি কারোরই আস্থা নেই। কারও কাছে এ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। এতে এ সরকার দেশ চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে দল পুনর্গঠন করে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, সক্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের সামনে এনে শিগগিরই দল পুনর্গঠন করবেন খালেদা জিয়া। নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার না করে দলের পেছনের কাতারে রেখে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের সামনে আনবেন তিনি। ওই নেতা জানান, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া। এর মাধ্যমে সারা দেশে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং সার্বিকভাবে দল পুনর্গঠনের পরই জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে চান তিনি। এক বছরের মধ্যে সরকারকে নির্দলীয় ব্যবস্থার আওতায় নির্বাচন দিতে বাধ্য করার কৌশল নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলের একটি ব্যাপক পুনর্গঠন চাচ্ছে হাইকমান্ড। এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। বিশেষ করে প্রবল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ঢাকাকেন্দ্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় সবার আগে দলে শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে এ পুনর্গঠনে সবার আগে ঢেলে সাজানো হবে ঢাকা মহানগর কমিটিকে। পরিবর্তন আসছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটি, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। এ শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে জেলা পর্যায় থেকে। পর্যায়ক্রমে এসব কমিটি ঢেলে সাজানোর পর মাঠ নেতাদের সুপারিশের আলোকে দলের জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। বছরখানেক ধরে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতা এবং বেশ কয়েকটি কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়ার জন্য যোগ্য ও ত্যাগী নেতা খুঁজছে বিএনপি হাইকমান্ড। এ পদের জন্য দলের প্রবীণ এক নেতাকে ভাবনায় রাখা হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ওই নেতা দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য এবং একজন ভাইস চেয়ারম্যানকে মহাসচিব পদের জন্য ভাবছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দলে ফিরিয়ে এনে মহাসচিব পদে দেখতে চান দলের তৃণমূল অনেক নেতা। পুনর্গঠনের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দেখা যেতে পারে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বেগম সেলিমা রহমান ও সাদেক হোসেন খোকাকে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আনা হতে পারে দলের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে।
দল পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, এটি বরাবরই একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। কাজেই পুনর্গঠন, কমিটি সংস্কার- এ সবই স্বাভাবিক কার্যক্রম। এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক









