কৃষকের গলার কাঁটা সেচ প্রকল্পের রিংবাঁধ

0
105
Print Friendly, PDF & Email

চাঁদপুরে বোরো চাষিদের সুবিধার্থে সেচ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নদীপাড়ের রিংবাঁধগুলো এখন উল্টো কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর বাঁধগুলো সংস্কার না করায় হুমকির মুখে পড়েছে শত শত একর জমির বোরো ফসল। স্থানীয় কৃষকদের খরচে রিংবাঁধ কোনো রকম মেরামত করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অতিরিক্ত পানির চাপে বহুবার বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ফসল। ফলে প্রায় বছর লাভের বদলে বোরো চাষিদের গুনতে হয় লোকসান।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিয়নের কৃষক খলিল মিজি জানান, বর্ষা মৌসুমে রিংবাঁধের ভেতরের জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় মাছ চাষ ছাড়া কোনো ফসল হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বাঁধ তৈরির পর আর খোঁজখবর নেননি কৃষকদের। হয়নি এর কোনো সংস্কার। এ কারণে প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে পানিতে ডুবে যায় একরের পর একর জমির বোরো ধান। একই গ্রামের কৃষক সাঈদ জানান, শুধু সেকদী গ্রামে রিংবাঁধের ভেতর রয়েছে ৫০ একর জমি। এ ছাড়া অন্য ইউনিয়ন ও হাইমচর উপজেলায় এ ধরনের ঝুঁকিতে আছে আরও শত শত একর। এসব জমিতে বোরো চাষের জন্য প্রতি বছর কৃষক নিজ উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করে রিংবাঁধ মেরামত ও সংস্কার করে। কিন্তু বাঁধ দুর্বল হওয়ায় তা ভেঙে বহুবার নষ্ট হয়েছে তাদের কষ্টের ফসল। চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন কৃষ্ণ জানান, সংরক্ষণ বাঁধের অর্থ থেকে রিংবাঁধ সংস্কার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ খাতে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, কৃষকদের কথা চিন্তা করে ১৯৭৬-৭৭ সালে তৎকালীন সরকার চাঁদপুর সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে। এরপর থেকে সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর এলাকার পাম্প হাউস (স্লুইস গেট) থেকে বেড়িবাঁধের ভেতর পানি সরবরাহ হতো। চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের আওতায় রামগঞ্জ, নোয়াখালী, রায়পুর এলাকায় কর্তৃপক্ষ ১০-১২ আরএল (ওয়াটার লেভেল) পানি চাহিদা মতো সরবরাহ করত। অন্যদিকে ৯ আরএল পানি সরবরাহের পরই তলিয়ে যেত চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচরের নিম্নাঞ্চল। এ কারণে ওইসব এলাকায় ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। আশির দশকে এ বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি ও কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদগঞ্জের সেকদীসহ নিম্নাঞ্চলের জমির পাশে নির্মাণ করে রিংবাঁধ। বাঁধ নির্মাণের ফলে কয়েক বছর এর সুবিধা ভোগ করে কৃষক। পরে আর সংস্কার না হওয়ায় শুরু হয় দুর্ভোগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ ব্যাপারে বার বার ধরনা দিয়েও পায়নি কোনো প্রতিকার।

শেয়ার করুন