কিবরিয়া হত্যার বিচার ঝুলে আছে ৯ বছর

0
79
Print Friendly, PDF & Email

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার গত ৯ বছরেও শেষ হয়নি। তদন্ত ও অধিকতর তদন্তের নামে গত ৯ বছর ধরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামালার বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। আজ ২৭ জানুয়ারি ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার ট্র্যাজেডির।
সংশ্লিষষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুন্সী আতিকুর রহমান জিয়া স্মৃতি সংসদের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমসহ ১০ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। শাহ এএমএস কিবরিয়ার পরিবার তাতে নারাজি আবেদন করলে উচ্চ আদালত পুনঃ তদন্তের আদেশ দেন। পরে সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রফিকুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২০ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ নতুন ১৪ জন এবং পূর্ববর্তী চার্জশিটের ১০ জনসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করেন।
কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া ঘটনার সাথে জড়িতদের ও নেপথ্য নায়কদের আসামি করার দাবিতে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধেও নারাজি দেন। দুই দফা শুনানিশেষে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি মামলাটি পুনঃ তদন্তের আদেশ দিয়ে নথি হবিগঞ্জে ফেরত পাঠান। সিআইডির সিলেটের এএসপি মেহেরুন্নেছা অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পান। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট আজও আদালতে না পৌঁছানোয় চাঞ্চল্যকর এ মামলা বিচার এখনও ঝুলে আছে। মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মেহেরুন্নেছা মোবাইল ফোনে জানান, তদন্ত চলছে। মনিটরিং সেলের নির্দেশ না পেলে কিছুই করা যাবে না। তদন্ত শেষ করতে কতদিন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
্এ ব্যাপারে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আলমগীর ভূঁইয়া বাবুল বলেন, সিআইডি’র এএসপি রফিকুল ইসলামের দেয়া চার্জশিটে প্রচুর তথ্য-উপাত্ত থাকলেও হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারীদের চিহ্নিত করা হয়নি। এখনও তদন্ত শেষ না হওয়ায় এই বিচার ঝুলে আছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের এ দিনে সদর উপজেলার বৈদ্যেরবাজারে জনসভাশেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন। নিহত অন্যরা হচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আবুল হোসেন, সিদ্দিক আলী ও আব্দুর রহিম।
হামলায় আহত হন অন্তত ৭০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক (বর্তমানে হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি) অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মজিদ খান বাদী হয়ে সিলেট সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন