মামলা নিয়েই সংসদের মেয়াদ পার

0
97
Print Friendly, PDF & Email

নবম সংসদে নির্বাচনের বিরুদ্ধে করা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি, এর মধ্যে চাঁদপুর-১ আসন থেকে দশম সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। একই ঘটনা ঘটেছে নড়াইল-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কবিরুল হকের ক্ষেত্রে। গত সংসদের সদস্যপদের বৈধতার মামলা নিয়েই দশম সংসদের সদস্য হয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী রত্মা হাওলাদার।
২৪ জানুয়ারি শেষ হ”েছ নবম সংসদের মেয়াদ। তবে এরই মধ্যে নতুন নির্বাচন হওয়ায় কার্যকারিতা হারিয়েছে ওই সংসদ। এই হিসাবে মামলা নিয়েই মেয়াদ শেষ করেতে যা”েছন আরও তিনজন সংসদ সদস্য। এরা হলেন ময়মনসিংহ-৯ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম, ঝিনাইদহ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের শফিকুল আজম খান এবং বরিশাল-৪ আসনে বিএনপির মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ।
তবে মামলা জিতে নবম সংসদে বসেছেন বিএনপির নেতা মাহমুদুল হাসান। এই সমস্যা অবশ্য কেবল নবম সংসদের ক্ষেত্রে হয়নি। মাহমুদুল হাসানের আগে ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলা করে সংসদে বসেছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এরপর ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের ঘোষিত ফলের বিরুদ্ধে করা মামলা মধ্যে প্রতিকার হয়নি একটিরও। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে রায় হলেও উ”চ আদালতে গিয়ে আটকে থাকে মামলাগুলো। এর মধ্যে সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই মামলাগুলোর আর কার্যকারিতা থাকে না। এই বাস্তবতায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও মামলা করতে যান না অনেক প্রার্থী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ এই সময়কে বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে এখনও আমরা বিশেষ কিছু ভাবিনি। তাই তেমন কিছু বলতে পারছি না’।
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইনে বেশ কিছু সংস্কার করে। সে সময় নির্বাচনে অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কথা ওঠে। কমিশনও বেশ কিছু ব্যব¯’া নেয়। কিš‘ সেগুলো কার্যকর প্রমাণ হয়নি।
জানতে চাইলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সং¯’া ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে নিষ্পত্তি হলে ভবিষ্যতে কেউ আর অনিয়ম করতে পারত না। এতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কমে আসত। কিš‘ যেহেতু মামলাগুলো শেষ হয় না, সেহেতু অনিয়ম করার প্রবণতাও থেকে যায়।’
মামলা কেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না, জানতে চাইলে শারমিন মুরশিদ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এটা হয়। তিনি বলেন, ‘সাধারণত ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয় আর তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে মামলাগুলো ¯’গিত করে রাখেন।’
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন ২১ জন প্রার্থী। সেদিন ভোট করা যায়নি এমন আট আসনের মধ্যে সাতটিতে ভোট হয় ১৬ জানুয়ারি। সেদিনও লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নানা অভিযোগ তোলে তারা গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসলেও এখন পর্যন্ত কমিশনে কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ।
পাবনা-১ আসনে সরকারদলের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সায়ীদ। অনিয়মের এসব অভিযোগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা করবেন কি-না, জানতে চাইলে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘চলতি মাসেই আমি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করব। আশা করি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।’
নবম সংসদ নির্বাচনে ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলাগুলো: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৯, ঝিনাইদহ-৩, নড়াইল-১, চাঁদপুর-১, বরিশাল-৪ ও ৬, ভোলা-৩ আসন এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৪২-এ বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে কেবল টাঙ্গাইল-৫ ও ভোলা-৩ ছাড়া বাকি মামলার একটাও নিষ্পত্তি হয়নি সংসদে মেয়াদে। এর মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদে ভোট শেষে গঠিত হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ। এরই মধ্যে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। দায়িত্ব নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভাও।
মেয়াদের শেষে দেয়া রায় আপিল বিভাগে ¯’গিত: ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে জিতেন আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম। নির্বাচনের পর ¯’ানীয় ছাত্রলীগ নেতা জামালউদ্দিন হাইকোর্টে আবদুস সালামের সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। কেন তার সংসদ সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তার আসন শূন্য ঘোষণা করে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
প্রায় পাঁচ বছর শেষে গত ২১ নভেম্বর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সংসদ সদস্য আবদুস সালামের সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করে আদেশ দেন। কিš‘ এরপর আবদুস সালামের আবেদনের পর ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই আদেশে ¯’গিতাদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি। কিš‘ ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদের মেয়াদ থাকাকালে এই মামলা নিষ্পত্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছে না নির্বাচন কমিশন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় আবদুস সালামকে। প্রাথমিক যাচাইবাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করলেও এর বিরুদ্ধে এক প্রার্থীর আবেদনের পর তা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
আপিল বিভাগের ¯’গিতাদেশে মেয়াদ শেষ মহীউদ্দীন খান আলমগীরের: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে চাঁদপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এক লাখ ৭ হাজার ৪৬১ ভোট পেয়ে জিতেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির এহছানুল হক মিলন পান ৮০ হাজার ৮৭২ ভোট।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১৩ বছর সাজা হওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রির্টানিং কর্মকর্তা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মানোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে ইসিতে তিনি আপিল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। এরপর মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশে হাইকোর্টের ¯’গিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এই আওয়ামী লীগ নেতা ।
নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যপদে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন পরাজিত প্রার্থী এহছানুল হক মিলন। দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২০১২ সালের বছরের ১৫ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ওই রায়ের আলোকে একই বছর ২২ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। চারদিন পর নির্বাচন কমিশনের গেজেটের কার্যকারিতা ¯’গিত করা হয়। এরপর আর নিষ্পত্তি হয়নি মামলার।
এরই মধ্যে শপথ নিয়ে ফেলেছেন দশম সংসদের সদস্যরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে শপথ নিয়েছেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
পৌর মেয়র থাকা অব¯’ায় সংসদ সদস্য নির্বাচন, অতঃপর আদালতে গিয়ে পাঁচ বছর পদে : নবম সংসদ নির্বাচনের সময় ঝিনাইদহ এবং মাগুরায় দুটি পৌরসভার মেয়র ছিলেন শফিকুল আজম খান এবং কবিরুল হক। ওই নির্বাচনের আগে এই দু’জন এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সে সময়ের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তিনজনই রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন। ইসি খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল বহাল রাখলে তারা হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত ইসির সিদ্ধান্তের ওপর ¯’গিতাদেশ দেন এবং খোকার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশনকে। এরপর অন্য দু’জনও সে সুযোগ পান।
পরে পৌরসভার মেয়র থাকাকালেই শফিকুল আজম খান ঝিনাইদহ-৩ এবং কবিরুল হক মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচন করে জিতেন।
কিš‘ নির্বাচনে জিতলেও ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট শফিকুল আজমকে এবং ৩ সেপ্টেম্বর কবিরুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়, প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ছিলেন। এ অব¯’ায় তাদের সংসদ সদস্য পদ কেন অবৈধ হবে না। এ নোটিশের বিরুদ্ধে দুই সংসদ সদস্য আদালতে রিট করেন। কমিশনও মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিš‘ এই মামলাও শেষ হয়নি নবম সংসদের মেয়াদে।
দশম সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসনে এবার আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি শফিকুল আজম খান। ওই আসনে এখন সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ। তবে নড়াইল-১ আসন থেকে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কবিরুল হক।
মামলা নিয়েই মেয়াদ শেষ করলেন স্বামী-স্ত্রী : নবম সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ আসন থেকে জিতেছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। আর সংরক্ষিত নারী আসনের ৪২ নম্বর থেকে জিতেন তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রতœা।
নির্বাচনে জয়ের পর রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অসত্য তথ্য দেয়ার অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করার তথ্য দিলেও এর সনদ দিতে পারেননি। এই মামলাটিও পরে আটকে যায় উ”চ আদালতে।
জাপা মহাসচিবের স্ত্রী নাসরিন জাহান রতœাকে ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয় জাতীয় পাটি। ওই বছরের ৩০ মার্চ বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে থাকা অব¯’াতেই এই পদে নির্বাচিত হন রতœা। এই মামলাটিও শেষ হয়নি পাঁচ বছরে। আর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবম সংসদে স্বামীর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন রত্মা।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মাহমুদুল হাসানের অফিস থেকে জানানো হয়, নবম সংসদ কার্যকারিতা হারানোয় এই মামলাগুলোর কার্যকারিতাও হারিয়েছে।
সমাধান হয়নি বিএনপির সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগেরও : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসন থেকে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের মইদুল ইসলাম।
এই অভিযোগ পেয়ে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদকে অভিযোগের জবাব দিতে চিঠি করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই চিঠির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। আর নির্বাচন কমিশনও এই মামলাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিš‘ এরও কোনো সুরাহা হয়নি এখনও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষ হলে এই মামলার আর কার্যকারিতা থাকে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশনের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। আর আদালতেরও এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার।
শেষ হয়েছে যে দুই মামলা : নবম সংসদ নির্বাচনে ফলাফলের বিরুদ্ধে করা মামলা দুটি মামলা কেবল শেষ হয়েছে সংসদের মেয়াদকালে। এর মধ্যে একটি মামলায় জিতে সরাসরি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির মাহমুদুল হাসান। তবে অন্য একটি মামলায় জিতলেও উপনির্বাচনে হেরে যান বিএনপির সহ-সভাপতি হাফিজউদ্দিন আহমেদ।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্ব^র নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা আবুল কাসেমের জয়টা ছিল নিরঙ্কুশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহমুদুল হাসানের ৭২ হাজার ৮০৫ ভোটের বিপরীতে তার ভোট ছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫২টি। তবে ৭৪ হাজার ৩৪৭ ভোট কম পেয়েও শেষ পর্যন্ত ওই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপি নেতা। আর আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে মামলায় জেতায় এই বিরল সুযোগ পান মাহমুদুল হাসান।
আবুল কাসেম বিল খেলাপি ও ঋণখেলাপিÑ এই অভিযোগ এনে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন মাহমুদুল হাসান। ট্রাইব্যুনালের পর উ”চ আদালতে শুনানি শেষে দুই বছর পর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এই বিএনপি নেতা।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে ১৩ হাজার ভোটে হারিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের জসিম উদ্দিন। কিš‘ চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর আগেই জসিম উদ্দিন নির্বাচন করেছিলেনÑ এই অভিযোগ এনে মামলা করেন হাফিজ উদ্দিন। মামলার রায় পক্ষে আসার পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল আবার ভোট হয় সেই আসনে। ওই নির্বাচনে অবশ্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের কাছে হাফিজ উদ্দিন হারেন ৫৪ হাজার ভোটে।

শেয়ার করুন