মেয়র আত্মগোপনে, আটকে গেছে আট প্রকল্প

0
104
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির নেতা মোসাদ্দেক হোসেন মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আটটি প্রকল্পের ২০ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২ টাকার কাজ আটকে গেছে। সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের সময় এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
মোসাদ্দেক হোসেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। গত বছরের ১৫ জুন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খায়রুজ্জামানকে পরাজিত করেন তিনি। খায়রুজ্জামান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
বর্তমান মেয়র অবশ্য প্রায় এক মাস ধরে অফিস করছেন না। ২৬ ডিসেম্বর শহরে ১৮-দলীয় জোটের মিছিল থেকে বোমা হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন। মেয়র মোসাদ্দেককে এই পুলিশ হত্যা মামলার আসামি করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এখন সিটি করপোরেশনে ভারপ্রাপ্ত মেয়রও নেই।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আটটি প্রকল্পের কোনোটির ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো ঠিকাদার টাকা পাননি। ঠিকাদাররা বলছেন, যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, সেটার বিল পেলেও তাঁরা বাকি কাজ করে দিতে পারেন।
রাজশাহী নগরের আলুপট্টির মোড়ে ল্যান্ড স্কেপিং (সড়ক সৌন্দর্যবর্ধন) কাজের ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। নগরের ফুলতলা ও আলুপট্টি বাঁধের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। পদ্মা গার্ডেনের পশ্চিম পাশ এবং হজরত শাহ মখদুমের মাজারের সামনের স্লুইসগেটের (জলকপাট) সামনে ওভারব্রিজ ও বড়কুটি বিনোদন পার্কের প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ ১০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ লাখ টাকা।
শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধক ডাস্টবিন নির্মাণের কাজ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ লাখ টাকা। শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্কের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সৌন্দর্য অবকাঠামো নির্মাণকাজের ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডে আর্থসামাজিক, ধর্মীয় অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজের ৩০টি প্যাকেজের মধ্যে ২৫টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাবেক মেয়র প্রতিশ্রুত আর্থসামাজিক, ধর্মীয় অবকাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজের কার্যাদেশ গ্রহণের জন্য ঠিকাদাররা কাগজপত্র দাখিল করেছেন। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। নগরের লক্ষ্মীপুর গার্লস হাইস্কুলের অভ্যন্তরে মিলনায়তন নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ লাখ টাকা।
ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে স্তম্ভের (পিলার) খানিকটা ওপরে ওঠানো হয়েছে। স্তম্ভের ওপরের রডে মরিচা ধরে গেছে। এ কাজের ঠিকাদার বেলাল উদ্দিন বলেন, যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তাতে তাঁর ১৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ছয় মাস আগে তিনি বিল জমা দিয়েছেন। এখনো পাননি।
শহীদ কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্ক, জেলা পরিষদ ও কামরুজ্জামান স্মৃতিস্তম্ভের কাজ করছেন আশরাফুল কবির লিমিটেড। এর পরিচালক রফিক উদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য সব কাজ শেষ করেছেন। তাঁর তিন কোটি টাকার মতো পাওনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের টাকা না থাকার কারণে তিনি বিল করতে পারছেন না।
যোগাযোগ করা হলে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আগের মেয়রের সময়ে কাজগুলো শুরু হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। কাজগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ ছাড় হওয়া খুবই জরুরি।
সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এসব কাজের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে তিনি আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তাঁরা ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজগুলোর অর্থ ছাড় করানোর ব্যাপারে তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার করুন