শুধু প্রতিপক্ষ নয়, সবাইকে দমনেই সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করবে

0
113
Print Friendly, PDF & Email

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক হুশিয়ার করে দিয়েছেন যে এখন প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য সরকার তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করলেও পরে সবাইকে দমনেই এটা ব্যবহার করবে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দৈনিক ইনকিলাব বন্ধ করে দেয়া এবং এর সাংবাদিকদের গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত শনিবার রাতে সাক্ষাত্কারটি প্রচারিত হয়।
ইনকিলাব বন্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা নিঃসন্দেহে চরম ব্যবস্থা। যারা সংবাদ প্রকাশ করছেন বা তথ্য ছড়াচ্ছেন তাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। ধরে নিলাম যে উদ্যোশ্য-প্রণোদিতভাবে তারা সংবাদ প্রকাশ করছে। সেটাকে মোকাবিলা করার জন্য কঠোর ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হলে, গ্রেফতার করলে, ওইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে সেটা নিঃসন্দেহে বাক স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ মিথ্যা সংবাদ ছড়ালে বা যদি উসকানিমূলক সংবাদ ছড়ায়, তখন তা মোকাবিলার জন্য, অন্য ধরনের আইনি কাঠামো দরকার। কঠোর শাস্তির আইনি কাঠামো এবং যেখানে পুলিশকে অগাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা অপপ্রয়োগ হতে বাধ্য।
শাহদীন মালিক বলেন, এখানে স্পষ্ট যে যখন ফৌজদারি আইনে, বিষয়টাকে বিরাট অপরাধ বানিয়ে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয় তখন শাসক দলের একটা সাধারণ প্রবণতা হয় ওই ফৌজদারি আইন ব্যবহার করে এবং কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করে যারা তাদের সমালোচনা করে, ভিন্নমত উপস্থাপন করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। এতে সমাজের ক্ষতি হয়, গণতন্ত্রের ক্ষতি হয়, বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ হয়।
প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। এটা সবাইকেই দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। আসল কথাটা হলো, শুরু হয় হয়তো একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বা একটা নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে। তারপর এটা আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ে।
সংবাদ মাধ্যমের ওপর এ আইনের প্রয়োগকে বাক স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহদীন মালিক বলেন, এসব আইনের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো, যারা এই আইনগু প্রণয়ন করে এবং ভাবে যে তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। পরে এই খারাপ আইন তাদের জন্যই বুমেরাং হয়ে যায়। ২০০৬ তথ্যপ্রযুক্তি আইনটি কিন্তু বিএনপি সরকারের আমলে হয়েছিল। এখন এটা তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার হচ্ছে।
তিনি বলেন, যদি পত্র-পত্রিকার তথ্য ভুল হয়, সারা দুনিয়াতে যেটা হয়েছে যে, দশ লাখ বা বিশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এটা হলে সংবাদ মাধ্যমগুলো নিজেরাই সাবধানে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আওয়ামী লীগ সরকার এর আগে দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক আমার দেশ বন্ধ করে দেয় এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে বর্বর নির্যাতন চালায়।
এরপর একই আইন ভঙ্গের অজুহাতে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভিও বন্ধ করে দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ আইনের কঠোর সমালোচনা করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সরকার দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলানকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।

শেয়ার করুন