লড়াই হবে উপজেলায় ওয়াকওভার পাচ্ছেনা আওয়ামী লীগ

0
80
Print Friendly, PDF & Email

রথম ধাপে ১০২ উপজেলায় ভোটযুদ্ধ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের তরফে রোববারই হয়েছে তফসিল ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে আরেক দফা চাপে ফেলতে উপজেলা নির্বাচনের কৌশল নিয়েছে সরকার এমন প্রচারণা থাকলেও বিনা যুদ্ধে মাঠ ছাড়ার পক্ষে নয় বিএনপি। স্থানীয় পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার আইনি সুযোগ না থাকায় দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা কষ্টকর। এ কারণে সমর্থন দিয়ে তৃণমূলের নেতাদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নামানোর কৌশল নিতে যাচ্ছে বিএনপি। ফলে ওয়াকওভার পাচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে এইচএম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা তেমনভাবে মাঠে ছিলেন না। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে ১৯৯০ সালের নির্বাচনেও। দল ক্ষমতাসীন থাকায় পার্টির প্রার্থীরা সারা দেশের ভোট কেন্দ্রগুলো দখল করে চালায় বেপরোয়া জাল ভোট। তবে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। ড. এটিএম শামসুল হুদার কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা প্রায় সমানে সমান লড়াই হয়। গত বছর অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনেও বিএনপি জোটের প্রার্থীরা বিপুল বিজয় পান। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেয়ার কৌশল চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। আর এতে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জমজমাট লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে উপজেলা নির্বাচনে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আইনগত ও কৌশলগত কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই হবে অনানুষ্ঠানিক। নির্বাচন নিয়ে দল ও জোটের নেতাকর্মীদের মাঝে এরই মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। এরপরই স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। মাঠ নেতাদের পরামর্শ মেনেই নির্বাচনে থাকা না থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। গত বছর সম্পন্ন হওয়া পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিপুল বিজয়ও দলটিকে ভোটযুদ্ধে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি উৎসাহ জোগাচ্ছে। বিএনপি নেতাদের ধারণা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে লাভজনক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমেই সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করার সুযোগ মিলবে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দেয়া গেলে বেশিরভাগ পদেই বিএনপি সমমনা বিজয়ী হয়ে আসতে পারবে। এতে শেষ পর্যন্ত লাভ হবে দল ও জোটের। তবে এজন্য প্রয়োজন ১৮ দলীয় জোটের তরফে একক প্রার্থী মাঠে রাখা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও। বিষয়টি নিয়ে তিনি এরই মধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। নির্বাচনে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি দেখভাল করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতি উপজেলায় শুরু হয়ে গেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। দলের সমর্থন পেতে এরই মধ্যে অনেকেই শুরু করেছেন জোর লবিং। কেউ কেউ নেমে পড়েছেন আগাম প্রচারণায়। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন তারা। অনেকে কর্মী সংগ্রহের চেষ্টাও শুরু করেছেন। সবমিলিয়ে জমজমাট নির্বাচন লড়াইয়ের আভাসই মিলছে। বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশি মাত্রায় সরব হতে দেখা গেছে। বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে দলীয় সমর্থন পেতে শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। জেলার আওয়ামী লীগ-বিএনপির অন্তত দুই ডজন প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও উপজেলা নির্বাচনে প্রধান দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকবেন বলে ধারণা স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের। রাজশাহী বিভাগেও আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতারা উপজেলা নির্বাচনে নামার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। সিলেট বিভাগের চিত্রও একই। সিলেটে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার তোড়জোড় বেশি। নিজ নিজ দলের সমর্থন আদায়ে মরিয়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন দলীয় সমর্থন লাভের আশায়।

শেয়ার করুন