এরশাদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা

0
91
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মাসিক ভাতা পাবেন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা। মন্ত্রী পদমর্যাদায় সুসজ্জিত অফিস, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারি, বিদেশ ভ্রমন থেকে শুরু করে সবকিছুই সরকারি খরচে পাবেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি। গত ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওই দিন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এরশাদ। দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারায় সিএমএইচ- এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যান জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর আসনে বসেন এরশাদ পত্নী রওশন এরশাদ। এরপর এরশাদকে বিশেষ দূত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হওয়ায় এরশাদ মন্ত্রী পদমর্যাদার সুযোগ-সুবিধার বাইরেও পাবেন কিছু বাড়তি সুবিধা। পাবেন সুসজ্জিত অফিস কক্ষ, বিদেশ ভ্রমণ, ভ্রমণের জন্য বিশেষ ভাতা, ইন্সুরেন্স, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা। তাকে ঘিরে থাকবেন ১১ জন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারী। দেশ বিদেশে যোগাযোগের জন্য তার বাসা ও অফিসের টিএনটি ফোনের এবং হাতে রাখা মোবাইল ফোনের সব বিল দেবে সরকার। থাকবে সার্বক্ষণিক গাড়ি। পাবেন সুসজ্জিত সরকারি বাড়ি। বাড়ি না নিলে পাবেন ভাড়া আর রক্ষণাবেক্ষণবাবদ ভাতা। এরইমধ্যে সরকারি সুযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে পুলিশ প্রোটোকল দেওয়া হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যান। তিনি তারপর একেক সময় একেক কথা বলে মিডিয়ার নজর কাড়েন। গত ১২ ডিসেম্বর রাতে র‌্যাব পুলিশের একটি দল এরশাদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-সিএমএইচ এ চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেয়। যদিও এরশাদের পক্ষ থেকে দাবি কর‍া হচ্ছিলো, তিনি সুস্থ। তাকে চিকিৎসা নয় আটক করা হয়েছে। নির্বাচনের পর অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ না নিয়ে দুই দিন পর একা শপথ পাঠ করেন এরশাদ। শপথের পরই হাসপাতাল থেকে ফিরে যান নিজ বাসভবনে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে এমন বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. ফারুক সোবহান। জানা গেছে, শিগগিরই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হতে পারে।

শেয়ার করুন