বাংলাদেশে ‘ভুয়া’ নির্বাচন সত্ত্বেও মিত্রের পাশে দিল্লি

0
56
Print Friendly, PDF & Email

শেখ হাসিনার জন্য ভারত স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের প্রভাবশালী কলকাতা টেলিগ্রাফ পত্রিকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি আরো বলেছে, ‘ভুয়া’ নির্বাচন সত্ত্বেও দিল্লি তার মিত্রের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সমর্থনের কারণেই হাসিনা সরকার নির্বাচন আয়োজনে সাহসী হয়েছিল। তবে ভারতকে এ জন্য মূল্য দিতে হবে বলেও পত্রিকাটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
দেবদীপ পুরোহিত ও চারু সুদন কস্তুরির লেখা ওই প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, ভারত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার ‘জয়’কে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশের ঘটনাবলি ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
এতে বলা হয়, নয়া দিল্লির এই অবস্থান হয়তো তার জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য উপকার হবে- এমন সম্পর্ককে সুসংহত করবে, তবে তা বিরোধী নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে স্থাপিত সাময়িক যোগাযোগ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
সংশয়ে থাকা পাশ্চাত্যের বিপরীতে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, ঢাকায় আগামী সরকার গঠন করার ব্যাপারে হাসিনার দাবির প্রতি সমর্থন দেবে। শেখ হাসিনা আরেকটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারেন- এমন ধারণার কারণে ভারতের এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় অবস্থানকারী কয়েকজন বিদেশী পর্যবেক্ষক বলেছেন, আরেকটি নির্বাচন হলে ভারতের জন্য বেশ সমস্যার সৃষ্টি হবে।
এক পর্যবেক্ষক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যে অবস্থা তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। হাসিনার প্রতি ভারতের সরাসরি সমর্থন ঘোষণার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সাথে নয়াদিল্লি কিভাবে কাজ করে তা দেখা হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ নীতিগতভাবে শেখ হাসিনাকে দোষারোপ করেছে। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা নির্বাচনকে বৈধতা দেবে না।
তবে নির্বাচনের আগেই হাসিনা সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল ভারত। অনেকে বিশ্বাস করতে পারে, ভারতের সমর্থনের কারণেই হাসিনা সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে সাহসী হয়েছিল।
টেলিগ্রাফ লিখেছে, বিএনপি এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ এবং নতুন সরকাকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করা সত্ত্বেও ভারত নির্বাচনের পরও তার আগের অবস্থানে অটল থেকেছে।
পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এক পর্যবেক্ষক বলেছেন, ‘এই অনিশ্চয়তার জন্য ভারতকে মূল্য দিতে হবে। কারণ বিএনপি-জামায়াত বিক্ষোভ অব্যাহত রাখবে, ভারতবিরোধী অনুভূতি বাড়িয়ে দেবে। হাসিনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দানের মাধ্যমে ভারত এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।… ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতকে তাদের সাথে নতুন করে শুরু করতে হবে।’

শেয়ার করুন