তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার

0
53
Print Friendly, PDF & Email

লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনগত দিক খতিয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতেই তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের এই উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সূত্র ধরেই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। সরকারের শীর্ষ মহল বলছে, তারেক রহমান বিদেশে পলাতক থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। বিচারাধীন মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য তাকে দেশে ফিরিয়ে আইনের কাছে সোপর্দ করতে হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নির্বাচন প্রতিহত করা এবং সরকারের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিয়ে লন্ডন থেকে সম্প্রতি তারেক রহমান ভিডিও বার্তা পাঠানোর পর সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হন তিনি।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একাধিক মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে তাকে’। তিনি বলেন, ‘বিদেশে অবস্থান করে তারেক রহমান দেশের সন্ত্রাসীদের ইন্ধন দিচ্ছেন এবং মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।’

আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারাধীন মামলার বিষয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। ‘

অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ‘তারেক রহমান ফেরারি আসামি হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। তার বিরুদ্ধে দেশে অনেকগুলো মামলা চলছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তার নিজেরই দেশে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।’ যদিও বিদেশে অর্থ পাচারের মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ মে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোজাম্মেল হক। এর পর তারেক রহমানকে গ্রেফতারের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর তারেককে নির্দোষ ঘোষণা করে এ মামলার রায়ে ওই পরোয়ানা প্রত্যাহারেরও আদেশ দেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সরকার এ গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায়ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সুযোগ রয়েছে বলে আইনজীবীরা মনে করছেন।

তারেকের বিরুদ্ধে এখনো ১৬ মামলা : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলা করে পুলিশ। একটি হত্যা ও আরেকটি বিস্ফোরণ দ্রব্য আইনে করা। এ দুটি মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে তারেক রহমানকে। এ দুই মামলায় তারেককে ‘পলাতক’ দেখিয়েই বিচারকাজ চলছে। বর্তমান সরকারের আমলে তারেকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলা হয় ২০১২ সালের ২ অক্টোবর। ঋণখেলাপির অভিযোগে এ মামলাটি করে সোনালী ব্যাংক। এ ছাড়া বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতারের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মোট মামলা হয় ১২টি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর একটি মামলা করে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে এসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ গুলোর মধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা আটটি। ২০০৭ সালে বিভিন্ন ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান, কাফরুল, শাহবাগ ও ধানমন্ডি থানায় দায়ের করেন এসব মামলা।

এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমান ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে। ইতোমধ্যে এ মামলায় মামুনের শাস্তি হলেও বেকসুর খালাস পেয়েছেন তারেক রহমান।

এ বিষয়ে তারেক রহমানের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এ মামলাগুলোর মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও ড্যান্ডিডাইংয়ের ঋণখেলাপির মামলা বর্তমানে সচল রয়েছে। বাকি ১২টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত।’ তার দাবি, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে যে তারেক রহমানকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের পরবর্তী কর্ণধার হিসেবে দেখে আসছে; সেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।’

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে বসে অন্যায়ভাবে ভিডিও কনফারেন্স করছেন, দেশে ভিডিও বার্তা পাঠাচ্ছেন। একজন পলাতক আসামি হিসেবে তিনি এটা করতে পারেন না। তার প্রশ্ন, ভাঙা সুটকেসের উত্তরাধিকারী তারেক রহমান এখন লন্ডনে তিনটি মার্সিডিস ব্যবহার করছেন, বিলাস বহুল বাড়িতে বসবাস করছেন কীভাবে?’

শেয়ার করুন