এক বছরে দু’বার এমপি তারা

0
80
Print Friendly, PDF & Email

এক বিরল সৌভাগ্যের তিলক লাগলো তাদের কপালে। কোনো কারণে আসন শূন্য হয়ে যাওয়ার কারণে তারা উপনির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতে এলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিছুটা আশা নিরাশার দোলাচলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষেই শিকে ছিঁড়েছে।

এক বছরের মধ্যে দু’বার সংসদ সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন এই তিন রাজনীতিক হলেন- বরগুনা-২ আসনের মো. শওকত হাচানুর রহমান রিমন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এরা তিনজনই আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য ‍প্রার্থী ছিলেন। অবশ্য দু’বারই তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কাউকে পাননি।

রোববারের সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনে শওকত হাচানুর রহমান রিমন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটপ্রতিদ্বন্দ্বী ড. আবুল হোসেন মোরগ প্রতীকে পান ১৬ হাজার ১২৯ এবং গণফ্রন্ট প্রার্থী কামরুজ্জামান লিটন (মাছ) পান ২ হাজার ৭শ ১৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৫২৪।

গত ৩ অক্টোবর উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকেই চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের নেতা সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুকে পরাজিত করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক। অবশ্য তার আসনে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এর আগে সে আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত হওয়ায় সে আসনটি শূন্য হয়। গত ৩ জুলাই আসনটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ মহিতুল ইসলাম অসীমকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

১৭ জানুয়ারি, ২০১৩। এরপর ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সাল। এই সময়টুকুর ব্যবধান ১১ মাস, ১৮ দিন। এরই মধ্যে দু’বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নবম সংসদ নির্বাচনে জাবেদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

প্রথমবার বাবা প্রবীণ রাজনীতিক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর নবম সংসদের উপনির্বাচনে জয়ী হন জাবেদ। পরেরবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনসহ ব্যবসায়ী সমাজের প্রিয়মুখ জাবেদ বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হলেও এ দুই নির্বাচনে তার শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। ১৭ জানুয়ারির উপনির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন গণফোরামের উজ্জল ভৌমিক। আর এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী নতুন দল বিএনএফের নারায়ণ রক্ষিত ও জাপার তপন চক্রবর্তী।

১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে জাবেদ। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়পার্টির তপন চক্রবর্তী পান ৮ হাজার ৪১৮ ভোট। অপর প্রার্থী বিএনএফের নারায়ণ রক্ষিত পান ১ হাজার ৯৫৪ ভোট।

শেয়ার করুন