বোরো আবাদ হুমকির মুখে ডিজেল সংকটে

0
126
Print Friendly, PDF & Email

বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে মাগুরায় ১০টি জ্বালানি তেলের পাম্প ও ৪০ জন এজেন্টের কাছে ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হরতাল-অবরোধের কারণে খুলনার জ্বালানি তেলের ডিপো থেকে তেল মাগুরায় আসতে পারেনি। এ কারণে সংকট তীব্র হয়েছে।

ডিজেলের এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো আবাদ পিছিয়ে যাবে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানা গেছে, খুলনার দৌলতপুরে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির তিনটি ডিপো থেকে মাগুরা জেলা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলায় ১০টি জ্বালানি তেলের পাম্প ও ৪০ জন এজেন্ট ডিজেল পেয়ে থাকেন।

চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় দৈনিক ৩ থেকে ৪ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর দেশের সব ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ থাকায় ডিলাররা (পাম্প মালিক) প্রয়োজনীয় ডিজেল নিতে পারেননি। এদিন মাত্র ৫০ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে।

অবরোধের কারণে শুক্রবার ও শনিবার খুলনার তিনটি ডিপো থেকে তেলের কোনো গাড়ি মাগুরা অঞ্চলে আনা যায়নি। এ কারণে শুক্রবার বিকেল থেকে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার এ সংকট আরও তীব্র হয়।

মাগুরার ফাতেমা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আলতাফ হোসেন বলেন, আমার পাম্পে বর্তমানে দৈনিক আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। যে তেল ছিল তা শুক্রবার বিকেলেই শেষ হয়ে গেছে।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, কৃষক বোরো রোপণের জন্য জমি তৈরি করার কাজ শুরু করেছেন। এ জন্য জমিতে সেচ দিতে হয়। ডিজেলের দীর্ঘস্থায়ী সংকট দেখা দিলে রোপণ পিছিয়ে যাবে। এতে জমির ফলন কমে যাবে। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাগুরায় ৩৫ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্পের সেচের আওতায় রয়েছে ৩০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি।

এ এলাকার কৃষক জ্বালানি তেলের গাড়ি হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার জন্য ১৮ দলীয় জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

শেয়ার করুন