ধর্ষণের পর মাথা থেঁতলে খুন

0
74
Print Friendly, PDF & Email

কলকাতা মধ্যমগ্রামের ঘটনা নিয়ে উত্তাল আবহের মাঝেই মালদহে গণধর্ষণের পর মাথা থেঁতলে খুন করা হল ২৭ বছরের এক যুবতীকে। শনিবার সকালে কালিয়াচক থানার সুজাপুরের চাষপাড়া গ্রামে তুঁত জমির পাশের গর্তে তাঁর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ শুক্রবার সন্ধে থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ঘটনার তদন্ত করছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যাম সিং।

শনিবার সকালে জমিতে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীরা মৃতদেহটি দেখতে পান৷ পরনে কামিজ, সোয়েটার, জ্যাকেট থাকলেও, শরীরের নিম্নাঙ্গে কোনও পোশাক ছিল না। গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। সারা শরীরে আঁচড়-কামড়ের দাগ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, খুনের আগে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে তাঁর উপর৷ যুবতীর মুখ ও মাথার ডান দিক ভারী কিছু দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল রক্তমাখা ইট, সজনে গাছের ভাঙা ডাল। সম্ভবত ওই ডাল দিয়ে পেটানো হয়েছিল যুবতীকে। মৃতদেহের কাছেই পাওয়া গিয়েছে মদের বোতল ও দু’টি প্লাস্টিকের গ্লাস৷ আশ্চর্যজনক ভাবে মৃতদেহ থেকে খানিক তফাতেই যুবতীর জুতো জোড়া পরিপাটি করে সাজানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে৷ যা দেখে পুলিশের অনুমান, অপরাধীরা যুবতীর পূর্বপরিচিত। মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গণধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করেছে।

মুখ বিকৃত থাকায়, মৃতদেহটি উদ্ধারের পর পুলিশ ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। গ্রামের মহিলারা কাপড় দিয়ে মৃতদেহটি ঢেকে দেন। পরে এক যুবক এসে সনাক্ত করে জানান, মৃতদেহটি তাঁর মাসির৷ সুজাপুরের কুড়ুলটোলা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। মহিলার বাবা পেশায় ছোট চাষি৷ পরিবারের দাবি, সামান্য অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন মহিলা। ২০১০ সালে বিয়ে হয়েছিল তাঁর৷ কিন্ত্ত মাস চারেকের বেশি সে বিয়ে টেকেনি। শুক্রবার সন্ধেয় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন যুবতী। রাতে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেছিল পরিবার। মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে আসেন তাঁরা৷ পরনের কামিজ ও সোয়েটার দেখে যুবতীকে সনাক্ত করে পরিবার।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটারের মধ্যেই জনবসতি৷ অথচ রাতে কেউ কোনও আওয়াজ পাননি বলেই দাবি করেছে এলাকাবাসী। গ্রামের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওই এলাকায় সন্ধের পরই মাতালদের ঠেক বসে৷ তার উপর জাঁকিয়ে শীত পড়ায়, অন্ধকার হলে খুব একটা সে দিকটায় যান না এলাকার মানুষ।

পুলিশ সুপার কল্যাণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে যা চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তাতে খুনের আগে গণধর্ষণ করা হয়েছিল বলেই মনে হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সম্ভবত দুষ্কৃতীরা মহিলার খুব পরিচিত ছিল৷ তাই গণধর্ষণের পর খুন করা হয়। এবং মৃতদেহ যাতে সনাক্ত করা না যায়, সে জন্য মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়। বেশ কিছু সূত্র পাওয়া গিয়েছে৷ অপরাধীদের মোটামুটি সনাক্ত করা গিয়েছে। খুব শিগগিরই দোষীরা ধরা পড়বে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র বলেন, ‘দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত পুলিশের।’

শেয়ার করুন