সরকারের মুখে সন্তুষ্টি, ভেতরে হতাশা

0
89
Print Friendly, PDF & Email

মুখে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেক কম সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি হতাশ করেছে সরকার ও সরকারি দলকে। সরকারের ধারণা ছিল, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি দেখানো যাবে।
কিন্তু ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ১৪৭ আসনে ভোট হলেও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন ভোটারদের মধ্যে কোনো উৎসাহ জাগাতে পারেনি। বরং দেশের সর্বত্র ছিল ভয়-আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা।
সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির আশা করেছিলেন। ভোট শেষে তাঁরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বলছেন, ভোটার উপস্থিতি তো কম ছিলই, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদেরই বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে যায়নি।
এ ছাড়া যেসব জেলায় এক-দেড় মাস ধরে সহিংসতা চলছিল, সেই জেলাগুলোতেও বাড়তি কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগও ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, দল সব জায়গায় সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নয়। কিছু স্থানে দলীয় দুর্বলতাও আছে।
গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে পূর্তমন্ত্রী ও দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি একে গণতন্ত্রের বিজয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের বিজয় বলে মন্তব্য করেন।
আবার সন্ধ্যায় একই স্থানে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব, তা প্রমাণিত হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, খুশি হওয়ার মতো নির্বাচন এটা নয়। কৌশলগত কারণে ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল। সেটি অংশগ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেও শেষ পর্যন্ত ওই সংসদ বাতিল হয়েছিল। এর খেসারত দল দিয়েছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে। রাজনীতি এক দিনের জন্য নয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য বলেন, নির্বাচনে জনগণ সম্পৃক্ত হয় এবং সংগঠন এগিয়ে যায়। আর এ ধরনের নির্বাচনে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর প্রশ্ন, এত উন্নয়নমূলক কাজ করার পরও সংগঠন অজনপ্রিয় হলো কেন?
অপর একজন নেতা বলেন, সরকার একটা নির্বাচন করতে চেয়েছিল। নির্বাচন হয়েছে, এতটুকুই। সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন, এই নির্বাচন করা ছাড়া সরকারের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই সরকারকে এটা করতে হয়েছে।
কয়েকজন নেতার মতে, একতরফা এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন করার বদনাম ছিল জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদ ও খালেদা জিয়ার। এবার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কারণে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে গেছে।
একজন কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে একতরফা নির্বাচন করতে দল বাধ্য হয়েছে, সেই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সরকারের কিছু ভুল নীতি দায়ী। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর সার্বিক রাজনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে দলের কোনো প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না। যদি সে রকম কোনো পরিকল্পনা থাকত, দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া যেত, তাহলে এ অবস্থার মুখোমুখি হতে হতো না।
সংবাদ সম্মেলন: গতকাল বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে পূর্তমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের বিজয় হয়েছে। তিনি বলেন, দু-একটি বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন না হলে দেশ কোথায় যেত? দেশ সাংবিধানিক সংকটে পড়ত। এখন শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন