ভোটার নেই, হয়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে চা-চক্র

0
203
Print Friendly, PDF & Email

শের প্রধান বিরোধীদল ছাড়াই বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। গণনা চলছে। রোববার বিকেল ৪টায় ১৪৭টি আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। শুরু হয়েছিল সকাল ৮টায়।

এরআগে নির্বাচনের বিরুদ্ধে ১৮দলীয় বিরোধীজোটের দুদিনের হরতালের ডাক দেয়। প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে নির্বাচন বর্জন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শনিবার এক ভিডিও বার্তায় ‘এই প্রহসনের নির্বাচন বর্জন’ করার আহ্বান জানান।

এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলোদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। বিরোধীদলের ডাকা অবরোধ ও হরতাল কর্মসুচির সময় ঘটেছে ব্যাপক সহিংসতা।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল-যা সরকার মেনে নেয় নি।

এদিকে সরিজমিনে দেখা গেছে, ভোটারবিহীন নির্বাচনে দেশের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে অলস সময় পার করেছেন নিরাপত্তা কর্মী, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টসহ সরকার সমর্থক নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা। ভোট কেন্দ্রে বসে খোঁশ গল্পের সাথে চলেছে নানা রকম বাহারী সব খাবার। অনেকে এই শীতে রোদে বসে কেন্দ্রের মুক্তপ্রাঙ্গণে রোদ পোহাতে পোহাতে চা পান করেছেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে, প্রার্থীদের এমন আশা ক্রমেই হতাশায় পরিণত হয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মী, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই যেন সরগরম করে রেখেছিলেন ভোটকেন্দ্রগুলো। আনুমানিক হিসেবে তাদের সংখ্যা ভোটারদের চেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় বাবদ ৩০০ কোটি টাকা চূড়ান্ত করে। এরমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১৪৭ কোটি টাকা নির্বাচন পরিচালনার জন্য এবং ১৪৪ কোটি টাকা আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়ে।

অন্যদিকে ভোট গ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে ১ লাখ ২০৮ জন পুলিশ, ৫০ হাজার সেনাবাহিনী, ৩০ হাজার র্যাব ও ২ লাখ ২০ হাজার আনসার সদস্য। সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও ভোটের আগের দিন শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ভোট কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় জানা গেছে, শতকোটি টাকা কোন কাজে আসেনি। এগুলো শুধু চা-নাস্তায় ব্যয় হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, দেশের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়নি। ইতোমধ্যে সারাদেশে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১৭টি জেলার ৩১৬ টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে ।

আজ রোববার বেলা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সারাদেশের ৩১৬ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে । যেসব জেলার কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হল রংপুরে ৫২, দিনাজপুরে ৪৫, চট্টগ্রামে ৩, যশোরে ১২টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭০, নীলফামারীতে ৯, গাইবান্দায় ৪৩, হাবিগঞ্জে ২ , ফেনীতে ১, লক্ষীপুরে ৩, বগুড়ায় ৫০ এবং জামালপুর ২ শেরপুরে ১০, সুনামগঞ্জে ৫ ঝিনাইদহে ৭ ও কুমিল্লায় ৪ টি ভোটকেন্দ্র ।

নির্বাচনে ১২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ৩৯০জন প্রার্থী বিভিন্ন প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। এর একটি বড় অংশ অর্থাৎ ১০৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি গণতন্ত্র হত্যার নির্বাচন বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর বর্তমান কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে ২৫ নভেম্বর দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এতে ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। ২ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর তা যাচাই-বাছায়ের দিন ধার্য করা হয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৩ ডিসেম্বর।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শতকোটি টাকা ব্যয়ে এ নির্বাচন ইতিহাসের অন্যতম প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে লেখা থাকবে

শেয়ার করুন