নির্বাচন উপলক্ষে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ভারতের

0
79
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত বাংলাদেশ লাগোয়া তাদের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে কেউ যাতে অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে, সে জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এসব সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টধারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

গত ৩১ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব অনিল গোম্বামীর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পরপরই নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেনাপোলের বিপরীতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগণা, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ সীমান্তবর্তী জেলায় বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ওপারের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণের সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে পশ্চিমে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলোর সড়ক ও রেলপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সৈন্য ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কেউ যাতে পারাপার হতে না পারে সে জন্য সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

বিনা কারণে সন্ধ্যার পর ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্ত এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোন ত্রুটি হয়েছে কীনা বা অবহেলা করা হচ্ছে কীনা, তা দেখার জন্য সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে বিভিন্ন সীমান্তে রাতে বিএসএফ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে অত্যাধুনিক সার্চ লাইট দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশিদের গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি করবে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে দিল্লী ও পশ্চিমবঙ্গে। তাদের দাবি, অশান্ত বাংলাদেশ থেকে দলে দলে মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করছে। আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে বেআইনিভাবে ঢুকছে বাংলাদেশিরা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করে এমনই তথ্য জানালেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অনিল গোস্বামী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী টেলিফোনে মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র ও স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সমস্ত এলাকা সিল করার জন্য। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মালদহ, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর এলাকার সীমান্তকে পুরোপুরি সিল করার পাশাপাশি সতর্ক থাকার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর তলব পেয়ে গত বুধবার দিল্লিতে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব। বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ও।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন, মাস তিনেক ধরেই সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। টানা অবরোধ, হরতালের জেরে অচল হয়ে পড়েছে দেশটি। ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যও ভেঙে পড়েছে। উল্টো দিকে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মানুষ রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করছে। সীমান্ত লাগোয়া সমস্ত থানাকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কোনভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ না হতে পারে। বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।

এ ব্যাপারে ২৬ বিজিবি বেনাপোল চেকপোস্টের ইনচার্জ নায়েব সুবেদার আব্দুল্লাহ জানান, বেনাপোল সীমান্তে এ ধরনের কোন খবর আমাদের জানা নেই। এ সীমান্ত শান্ত রয়েছে। অবৈধভাবে যাতে কেউ সীমান্ত পারাপার করতে না পারে সে জন্য বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন