ঘটা করে ইশতেহার ঘোষণা, জানে না শীর্ষ নেতারা

0
68
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ঘটা করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেও দলটির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য তা জানেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া দেননি। যদিও তিনি অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে যাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কতিপয় প্রেসিডিয়াম সদস্যকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করলেন। দলের সম্মতি আছে এমন দাবিও করেছেন তিনি।

এরপরও মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষ থেকে কোনো প্রক্রিয়া না আসা এবং অন্য প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ইশতেহার ঘোষণা করে নতুন করে রহস্যের জট পাকালেন ব্যারিস্টার আনিসুল।

এরশাদকে আটক করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়ার পর তার বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ নিজেকে চেয়ারম্যানের মুখপাত্র দাবি করে বলেছিলেন, জাতীয় পার্টির পক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলবেন মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও প্রেসিডিয়াম সদস্য চেয়ারম্যানের ছোটভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের। কিন্তু বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে দলটির একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শীর্ষ নেতারা বলছেন, এ নির্বাচনী ইশতেহার কে দিয়েছেন তা তাদের জানা নেই। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৫ ডিসেম্বরের নির্বাচন বয়কট করেছেন। এখনো তিনি সেই সিদ্ধান্তে অটল।

তারা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগে দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক হওয়া কথা থাকলেও তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ হয়নি। আর যেহেতু পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচন বর্জন করেছেন, সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রশ্নই ওঠে না।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, তজুল ইসলাম চৌধুরী, মাহিদুল ইসলাম মুকুল, ফখরুল ইসলাম ইমাম, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা, সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

কিন্তু জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রেসসচিব সুনীল শুভ রায় উপস্থিত ছিলেন না।

এ ব্যাপারের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এসএম ফয়সাল চিশতি বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব। কিন্তু কবে কোথায় জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হয়েছে আমার জানা নেই। আর কারা এ ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আমার জানা নেই। দলের চেয়ারম্যান যেহেতু নির্বাচন যাবেন না, তাহলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা কেন করা হবে।’

প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও একই কথা বললেন। এরশাদ নির্বাচন বর্জন করেছেন এবং সে সিদ্ধান্তে অটল আছেন বলেই জানেন তিনি। ইশতেহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অবহিত নই। আমি দলের প্রধানের কথা মতো মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। আর এরশাদ সাহেব নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় আছেন।’

তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচনে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ছাড়া বেশ কয়েকটি দল অংশ নিচ্ছে না, সে নির্বাচন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বয়কট করেছন।’

তাহলে কি রওশনের নির্দেশে এই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রওশন ও এরশাদ দীর্ঘ দিন এক সঙ্গে সংসার করেছেন। তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে কিছু বলতে পারবো না। তবে রওশনের আশঙ্কা ছিল নির্বাচনে না গেলে এরশাদকে আটক করে নির্মম নির্যাতন করা হবে। এ ভয়ে তিনি (রওশন) এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।’

এ ব্যাপারের জানতে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব ও জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত না থাকার কারণ জানতে চাইলে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘রওশন অসুস্থ, হাওলাদার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত তাই তারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।’

জিএম কাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে নিয়ে কোনো জবাব দিতে রাজি নই আমি। এখানে অনেক প্রেসিডিয়াম সদস্যই অনুপস্থিত। তাদের সবার না আসার কারণ আমি বলতে পারবো না। তাছাড়া তিনি নিজেও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত।’

এই ইশতেহারে এরশাদের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইশতেহারের প্রতিটি অক্ষর এরশাদ সাহেবের দেয়া। এবং আপনারা (সাংবাদিক) যেহেতু জানেন তিনিও জানেন।’

শেয়ার করুন