নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ ইসির

0
118
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সারা দেশের ভোটকেন্দ্র ও তার আশপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল জোরদারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে সব প্রচারণা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এছাড়াও ৪ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে সারা দেশে সব ধরনের অনুমোদিত যানবহন চলাচল বন্ধ করারও ঘোষণা দিয়েছে ইসি।

বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় ইসির উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, ভোটকেন্দ্রের চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে সব ধরনের যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল সীমিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের টহল জোরদার করে ভোটকেন্দ্রের চারপাশে পর্যায়ক্রমে টহল নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের মুখে দেশজুড়ে চলছে অবরোধ কর্মসূচি। এ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ আসনে ভোট নেই। এবার ভোট হতে যাওয়া ১৪৭টি আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮ হাজার ২০৯টি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মালামাল ও ব্যালট পেপার এলাকায় পাঠানোও হয়েছে।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সংরক্ষণ, সহকারী রিটার্নিং কারর্যালয়ে পাঠানো ও কেন্দ্রভিত্তিক বণ্টনের কাজ শেষ করতে হবে। ভোটের আগের দিন শনিবার প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপারসহ মালামাল গ্রহণ করে কেন্দ্রে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অবস্থান করবেন। ভোটের সময় ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা সুবিধাজনকভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ১৪৭ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৩৯০জন। এসব এলাকায় ভোটার ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন। ১৮ হাজার ২০৯ ভোটকেন্দ্রে থাকবে ৯১ হাজার ২১৩ ভোটকক্ষ।

এদিকে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) এএসএম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠির মাধ্যমে বুধবার জানানো হয়েছে, আগামী ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুসারে ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ, ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ (শুক্রবার) সকাল ০৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ, ০৭ জানুয়ারি ২০১৪ (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনোব্যক্তি কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংগঠিত করতে, যোগ দিতে পারবেন না।

এছাড়া উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কোনো হিংস্রতামূলক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ, ভোটার বা নির্বাচনী কাজকর্ম অথবা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কোনো অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি উক্ত বিধানাবলী লঙ্ঘন করলে তিনি ০২ (দুই) বছর এবং অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এদিকে আগামী ৪ জানুয়ারি ২০১৪ মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ০৫ জানুয়ারি ২০১৪ মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিনবোট, স্পিডবোটের চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও জিপ চলাচলের উপর উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। তবে সারা দেশে ০৩ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ মধ্যরাত থেকে ০৭ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

তবে নির্বাচনে প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতি পাওয়া পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও নির্বাচনি এজেন্টদের জন্য এ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে না। তবে পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। জাতীয় হাইওয়েগুলোর ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

শেয়ার করুন