দলীয় প্রধানের ভাষণ ও ইশতেহার নিয়ে অন্ধকারে জাপা

0
356
Print Friendly, PDF & Email

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বমোট ১৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নির্বাচন বর্জন করলেও তার দলের ৮৬ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। এরইমধ্যে দলটির ২৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, নির্বাচনের পূর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ সম্প্রচারের দিকনিদের্শনা, সময় ও তালিকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার রাতে বিটিভির মহাপরিচালক ম. হামিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইসি সচিব ড.মোহাম্মদ সাদিক বরাবর পাঠানো হয়।

চিঠিতে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে কে, কখন বিটিভিতে ভাষণ দিবে তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কে ভাষণ দিবেন এ নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না দলটির নির্ধারণী ফোরাম থেকে। এ ব্যাপারে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন শীর্ষ নিউজকে বলেন, যেহেতু আমাদের দলের চেয়ারম্যান (এরশাদ) এ নির্বাচনে নেই, সেহেতু দলীয় প্রধানের ভাষণের প্রশ্নই উঠে না।

এ সম্পর্কে দলের আরো কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো প্রকার তথ্য দিতে পারেনি। এর প্রধান কারণ নির্বাচন অংশ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে দু’ভাগে বিভক্ত জাপা নেতাকর্মীরা।

জাপার কোনো কোনো নেতা জোরেসোরে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এরমধ্যে রয়েছেন- দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সালমা ইসলাম, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি নেই। এরশাদ নিজেও নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। এমন বক্তব্য দিয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের। তার বক্তব্যের পক্ষে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আহসান হাবীব লিংকনসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতা।

এদিকে, দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের অবস্থান পরিষ্কার নয় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষের নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা রওশনের নেতৃত্বেই নির্বাচনে যাচ্ছেন। আর মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার উভয় নৌকায় পা দিয়ে চলছেন বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর গত ১ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে কিছু দাবি পেশ করে জাপার প্রতিনিধি দল। এরমধ্যে অন্যতম দাবি ছিল পার্টি প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দেওয়া।

এদিকে, নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষটি বলছে, আমরাতো নির্বাচনেই যাচ্ছি না, তাহলে ইশতেহারের প্রশ্ন আসবে কেন। আর নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষের অংশটি ইশতেহার নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

গত ২২ ডিসেম্বর কাজী ফিরোজ রশিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, দু একদিনের মধ্যে জাপার ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

তাজুলের বক্তব্য অনুযায়ী গত ২৭ ডিসেম্বর সাংবাদিকরা জাপা নেতাদের কাছে ইশতেহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি তারা।

এ ব্যাপারে শীর্ষ নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইশতেহার প্রস্তুত হচ্ছে। প্রস্তুত হলেই সংবাদ সম্মেলন করে তা প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করুন