সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হবে জানলে মুক্তিযুদ্ধ করতাম না : রানা দাসগুপ্ত

0
20
Print Friendly, PDF & Email

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানের প্রথমে বিসমিল্লাহ লেখা হবে এটা জানলে মুক্তিযুদ্ধ করতাম না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অক্সফামের সহযোগিতায় মানবাধিকার সংগঠন শারিসহ চারটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্বাচন : সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একসঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু তখন যদি জানতাম আজকের মতো ষড়যন্ত্র করে সংবিধানের প্রথমে বিসমিল্লাহ

লেখা হবে। আর রাষ্ট্রধর্মকে ইসলাম বানানো হবে, তাহলে আমি মুক্তিযুদ্ধ করতাম না।’

তিনি বলেন, ‘জিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলাম অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে বসবাস করব বলে। কিন্তু আজ সারাদেশে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিরা তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। সব জায়গায় তারা সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে এবং তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তাদের হত্যা করছে।’

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হতে পারি। তবে এভাবে এদেশে বাঁচতে চাই না। রাজাকার, আলবদররা ক্ষমতায় আসুক, তারা আমাদের অত্যাচার করুক সেটা কখনও চাই না।’

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকরা বলপ্রয়োগ ও সহিংসতায় বিশ্বাস করে। যারা অসহিংস মনোভাব পোষণ করে ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে তাদের তারা টার্গেটে পরিণত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা জানোয়ারের মতো। আর খালেদা জিয়া তাদের আশ্রয়দাতা।’

ইনু বলেন, একটি গোষ্ঠী রাজনীতি ও নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িকতাকে কাজে লাগায়। ধর্মের ভিত্তিতে ভোট করে।

বিরোধী দল এবং নির্বাচন বর্জনকারীরা সন্ত্রাস এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিক আবেদ খান দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু কমার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশে সংখ্যালঘু ছিল ২৯ শতাংশ। ১৯৫১ সালে তা কমে নেমে আসে ২৩.১ শতাংশে। তিনি বলেন, এরপরের দশকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা। ১৯৬১ সালে ১৯.৬ শতাংশ, ১৯৭৪ সালে ১৪.৬ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ১৩.৩ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ১১.৭ শতাংশ ও ২০০১ সালে ১০.৪ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মোট জনসংখ্যার ৯.৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমলেও ভারতে এ সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আবেদ খান বলেন, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে একদিন বাংলাদেশ সংখ্যালঘু শূন্য হয়ে হয়তো পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানে পরিণত হবে।

শারির নির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ ড. এম গুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অক্সফামের প্রকল্প সমন্বয়ক সৈকত বিশ্বাস, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা নির্মল রোজারিও প্রমুখ।

 

উৎসঃ   আমার দেশ

শেয়ার করুন