বৈদেশিক সম্পর্কে স্থবিরতা

0
30
Print Friendly, PDF & Email

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিন মাস ধরে পুরোপুরি স্থবির বৈদেশিক সম্পর্ক। ঋণ ও উন্নয়নমূলক সহায়তা, শিল্প, বাণিজ্যের জন্য বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের ঢাকা সফর বন্ধ। বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সফর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতের প্রতিনিধিরা সফরে আসছেন, কিন্তু তার কোনোটিই দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নবিষয়ক নয়, প্রত্যেকটিই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক। এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তাদের মতে, এ জন্য যে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জটিল হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অন্যতম বড় সহায়তাকারী কোরিয়া। কোরিয়ার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোইকার মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। এ জন্য প্রতি মাসেই কয়েকটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসত। সেই সফরগুলোতে সহায়তা, ঋণের কর্মকাণ্ডগুলোর প্রকল্প অনুমোদনসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হতো। সফরের পরই দুই দেশ চুক্তিতে সম্মত হতো। কিন্তু কোরিয়ার বড় মাপের কোনো প্রতিনিধিই গত তিন মাসে ঢাকা সফর করেননি। একমাত্র কারণ বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই অবস্থা অন্য বড় সহায়তাকারী দেশ জাপানেরও। জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। কিন্তু সেজন্য প্রয়োজন জাপানের প্রতিনিধিদের সফরে এসে বাংলাদেশের প্রকল্পগুলো পরিদর্শন। পরবর্তী প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ঢাকায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা। কিন্তু জাপানের প্রতিনিধিরাও আসছেন না তিন মাসের বেশি সময় ধরে। দূতাবাসের এক কর্মকর্তার মন্তব্য, জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটা পরিস্থিতিতে প্রতিনিধি পাঠাতে রাজি নয় টোকিও। বাংলাদেশের আরেকটি বড় সহায়তাকারী জোট ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এই জোটের প্রতিনিধিরা সর্বশেষ ঢাকা সফর করেন সেপ্টেম্বরে। কিন্তু সেই সফর ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি দেখতে। তার আগে থেকেই কোনো প্রতিনিধি আসেননি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনার জন্য। এ সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএসএইড, ব্রিটিশ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডিএফআইডি, চীনের সিসিআইসিইডি প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসতে পারছেন না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আটকে আছে। এগুলোর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না শুধু বিদেশি সরকারগুলোর প্রতিনিধিরা ঢাকা সফরে রাজি না হওয়ায়। পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ সময় নিয়ে আরও বেশি চিন্তিত। কারণ দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। কয়েক ডজন বৈঠক স্থগিত হয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর।

দূতাবাসের উন্নয়নমূলক কাজের কর্মকর্তারা ছুটিতে : ঢাকার দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ঢাকার বাইরে বা ঢাকাতেও দুই মাস ধরে সার্বক্ষণিক কাজ বা ভ্রমণের মধ্যে থাকতে পারছেন না। কিন্তু বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও ঢাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হয়। নিরাপত্তার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ঢাকার দূতাবাসগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ ছুটি নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে ঢাকার দূতাবাসের এ ধরনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার কারণে ঢাকায় না থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন