ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের টার্গেটে বিএনপি

0
249
Print Friendly, PDF & Email

সময় গড়ানোর সঙ্গে জল্পনা-কল্পনাও বাড়ছে ২৯ ডিসেম্বর নিয়ে। সারা দেশে চিরুণী অভিযান দিয়ে ঢাকার জনস্রোত ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজধানীবাসীর মধ্যে বিএনপির এই ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্ক জেঁকে বসেছে।

আতঙ্কে নতুন মাত্রা দিয়েছে সরকারি তরফে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি প্রতিহতের ঘোষণা। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে আহ্বান জানান।

তবে রবিবার গণতন্ত্রের অভিযাত্রা যে কোনো মূল্যে সফল করতে চাইছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট। কর্মসূচি সফলের কৌশল ও করণীয় ইতোমধ্যে জোটের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার কর্মসূচি করতে দেবে না এমনটা ধরে নিয়েই বিরোধী জোটের নেতারা তৃণমূল কর্মীদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। যত বাধাই আসুক, যে কোনো মূল্যে তাদের রবিবার ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। যানবাহনের ওপর সরকারি অবরোধ আরোপ করা হলে এক সঙ্গে না এসে ‘ওয়ান বাই ওয়ান’ ফর্মুলায় রাজধানীতে আসারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করে সবাইকে ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা হাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণজমায়েত হওয়ার আহ্বান জানান।

এ কর্মসূচি ঘোষণার পরদিন বুধবার ভোর রাত থেকে বিরোধীদলীয় নেতার গুলশানের বাসা ও কার্যালয়ে সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাক্ষাতেও অলিখিত বিধি আরোপ করা হয়েছে।

চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে ইতোমধ্যে আটক হয়েছেন- সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিদ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন। আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনিকে।

সূত্র মতে, ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায় বিএনপি-জামায়াতের লক্ষাধিক নেতাকর্মী চলে এসেছেন। তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসা-বাড়ি ও নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বাকিরাও আসার তোড়জোর চালাচ্ছেন। পতাকা আর পতাকা বহনের সরঞ্জাম তৃণমূলে ঘটা করেই জোগাড় করা হচ্ছে বলে আরটিএনএন’র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের আধিপত্য রয়েছে এমন এলাকায় দিনের বেলাতেই দেখা গেছে, বাঁশ থেকে পতাকা বহনের জন্য লাঠি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের বাড়িতে বিপুলসংখ্যক লোক দিয়ে এসব পতাকা ও লাঠি তৈরি করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এক উপদেষ্টা আরটিএনএন- কে বলেন, ‘রবিবার নয়াপল্টনে আমরা গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে চাই। সরকার নেতাকর্মীদের আসতে বাধা না দিলে ওইদিন ঢাকায় অর্ধ-কোটি মানুষের সমাগম হবে। এই বিশাল সমাবেশ নিশ্চয় রাজনীতির ময়দানে প্রভাব ফেলতে বাধ্য।’

তিনি বলেন, ‘টার্গেট অনুযায়ী লোক সমাগম করতে পারলে ওইদিন সরকারের বিরুদ্ধে গণঅনাস্থা জানানো হবে। তবে বাধা এলে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

এই উপদেষ্টা জানান, ‘কর্মসূচিতে বাধা এলে সোমবার থেকে শুরু হবে দেশজুড়ে অসহযোগ। ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ভোট ঠেকানোর চেষ্টা করব।’

কর্মসূচি সফলের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কর্মপরিষদের এক সদস্য আরটিএনএন- কে জানান, ‘জোটনেত্রী রবিবার যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, তাতে আমরা আমাদের ১০ লক্ষাধিক জনশক্তি হাজিরের টার্গেট নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘টার্গেট পূরণে ইতোমধ্যে ঢাকায় জনশক্তির বড় একটি অংশ অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়িযে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।’

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মীরা ঢাকায় আসছে। এই কর্মসূচি আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আশা করি এই শোডাউনে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের ভিত কেঁপে উঠবে।’

রবিবার নয়াপল্টনের সমাবেশে মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ডিএমপির কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। তবে বিরোধী জোট এবার অনুমতি নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছে না। তারা ধরেই নিয়েছে ডিএমপি অনুমতি দিবে না। অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি করার ব্যাপারে অনড় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

মার্চ ফর ডিমোক্রেসি সফল সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান আরটিএনএন- কে বলেন, ‘রবিবার ঢাকায় স্মরণকালের সমাবেশ হবে। কোনো বাধাই কাজে আসবে না। রাজধানীবাসী এবং সারা দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য মুখিয়ে আছেন। তারাই সর্বশক্তি নিয়োগ করে কর্মসূচি সফল করবে।’

শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিলে এবং এর ফলে কোনো অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার আগেও অনেকবার বাধা দিয়েছে, লাভ হয়নি। মানুষ ঢাকায় এসে সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আশা করি এবার সরকার বাধা দিবে না।’

শেয়ার করুন