টার্গেট ১০ লাখ

0
34
Print Friendly, PDF & Email

‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ সফলে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে ঢাকামুখী অভিযাত্রা সফলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিএনপির কেন্দ্র থেকে। রাজধানীর নয়াপল্টন ঘিরে এই অভিযাত্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নেয়া হয়েছে। বিএনপি ঢাকার আশপাশের ৯টি জেলা ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলো থেকেও নেতাকর্মী সমবেত করার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ভাবে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে বাধা দিলে পর দিন থেকে অসহযোগ ও গণকারফিউর মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন। জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর দুপুরের আগেই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আসবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন তিনি। 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা যেভাবে হোক, কর্মসূচি সফল করব। আমাদের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বাধা দেয়া কিংবা আমাদের সমাবেশ করতে না দেয়া হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ।’

সমাবেশে বাধা দিলে খালেদা জিয়াও পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। জানা গেছে, খালেদা জিয়া ‘গ্রেফতার বা গৃহবন্দী’ হতে পারেন জেনেও তিনি ওইদিন বাসা থেকে রাজপথে নামবেন। 

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করতেই ২৯ ডিসেম্বরের এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। তবে অভিযাত্রায় আসা নেতাকর্মীদের বাধা দেয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

এ দিকে গত দুই দিন খালেদা জিয়া কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাথে বৈঠক করেছেন। সাংবাদিকসহ পেশাজীবী নেতারাও তার সাথে বৈঠক করেছেন। এ সময় খালেদা জিয়া তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা প্রস্তুতি নিন, যতই বাধা আসুক আমি রাজপথে নামবই।’ তিনি আশঙ্কা করেন, ওইদিন তাকে বাধা দেয়া হতে পারে। তাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া নাও হতে পারে। 

বিএনপির দফতর সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচি ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার বার্তা জেলা ও মহানগরসহ সব ইউনিটে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। দলের একজন সিনিয়র নেতা জেলা ও থানাপর্যায়ে কথা বলে কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফলের পরামর্শ দিচ্ছেন। 

বিএনপি সূত্র আরো জানিয়েছে, সব জেলা ও মহানগরে কিছুসংখ্যক নেতাকর্মীকে জেলাতেই থাকতে বলা হয়েছে। 

গতকাল সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ২৯ ডিসেম্বর নেতাকর্মীদের যেখানে বাধা দেয়া হবে, সেখানেই তারা বসে যাবেন। 

জামায়াতে ইসলামীও ২৯ ডিসেম্বরের অভিযাত্রায় বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। 

জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর বিরোধীদলের এই কর্মসূচি তীè নজরে রেখেছে ঢাকায় নিযুক্ত প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকেরা। নিয়মিতই তারা বিরোধীদলের সর্বশেষ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে অবহিত হচ্ছেন। বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে বিরোধী দল এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে চায় বলে কূটনীতিকদেরকে দলটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে। বিএনপি নেতারা তাদের বলেছেন, ১৮ দলের দাবির সপক্ষে দেশের জনগণ যে সম্পৃক্ত আছেনÑ সেটাই তুলে ধরা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। একটি সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচির আলোকে কূটনৈতিক অঙ্গন থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্তও আসতে পারে। 

২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। হার্ডলাইন নিয়েছে সরকার। গ্রেফতার অভিযান চলছে। সরকারের নির্দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন এবং কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না সিনিয়র নেতাদের। আবাসিক হোটেলগুলোতে পুলিশি প্রহরা বসানো হয়েছে। খাবার হোটেলগুলোও শনিবার থেকে বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন